নামাজের নিয়মাবলি: ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও বিধিবদ্ধ অনুশীলন
ইসলামের মৌলিক জ্ঞান · তথ্যবক্স



বিস্তারিত বিবরণ
নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। এ কথাটা শুধু মুখে বললেই হয় না। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করাটা একজন মুমিনের জন্য ফরজ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বারবার নামাজের কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নামাজকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যেন এটা ঈমানের মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে একটা।
নামাজ শুধু কয়েকটা রাকাত পড়ে ফেলা নয়। এটা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করা, নিজের গুনাহের জন্য লজ্জা পাওয়া আর রহমত চাওয়ার একটা নিয়মিত সুযোগ। যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন, তারা জানেন এটা কতটা শান্তি দেয়। আর যারা এখনও শুরু করেননি বা অনিয়মিত, তাদের জন্য এখানে ধাপে ধাপে পুরো নিয়মটা খুলে বলা হলো।
নামাজের আগে যা করতে হয়
সবচেয়ে আগে অজু। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। পানি দিয়ে হাত, মুখ, হাতের কনুই পর্যন্ত, মাথা মাসেহ করে, পা গোড়ালিসহ ধোয়া। অজুর সময় নিয়ত করা ভালো। নিয়ত মানে মনে মনে বলা যে আমি অজু করছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। অজু ভাঙার জিনিসগুলো মনে রাখতে হবে—প্রস্রাব-পায়খানা, বায়ু নির্গতসন, ঘুম, রক্তপাত ইত্যাদি। অজু ভাঙলে নতুন করে অজু করতে হয়।
অজু শেষ হলে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হয়। কিবলা মানে কাবার দিক। বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম দিকে। মসজিদে মিহরাব দেখে সহজেই বোঝা যায়। ঘরে পড়লে কম্পাস বা মোবাইলের কিবলা অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। কিবলা ঠিক না থাকলে নামাজ শুদ্ধ হয় না।
নামাজ শুরু করার নিয়ম
দাঁড়িয়ে দুই হাত কানের লতি বরাবর তুলে “আল্লাহু আকবার” বলা। এটাকে তাকবীরে তাহরিমা বলে। এর পর থেকে নামাজ শুরু। হাত বাঁধার নিয়ম—ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের ওপর বা নাভির নিচে রাখা। হানাফি মাজহাবে সাধারণত নাভির নিচে বাঁধা হয়।
এর পর সানা পড়া। “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা…” এই দোয়াটা মনে মনে বা আস্তে আস্তে পড়া যায়। তারপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ বলে সূরা ফাতিহা শুরু। সূরা ফাতিহা না পড়লে নামাজ হয় না। এটা ফরজ। ফাতিহা শেষে “আমীন” বলা। তারপর যেকোনো একটা সূরা বা কয়েকটা আয়াত পড়া। ছোট সূরা যেমন ইখলাস, ফালাক, নাস খুবই ভালো। লম্বা সূরাও পড়া যায় যদি সময় থাকে।
রুকু ও সিজদার ধাপ
সূরা পড়া শেষ হলে আবার “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যাওয়া। রুকুতে পিঠ সোজা রাখা, হাত হাঁটুতে রাখা, মাথা না উঁচু না নিচু। রুকুতে তিনবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম” বলা। এর বেশি বলা যায়। রুকু থেকে উঠে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলা, তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলা।
এর পর সিজদায় যাওয়া। “আল্লাহু আকবার” বলে দুই হাত, দুই হাঁটু, কপাল ও নাক মাটিতে রাখা। সিজদায় তিনবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” বলা। সিজদায় থাকার সময় মনে মনে দোয়া করা যায়। সিজদা থেকে উঠে একটু বসে “আল্লাহুম্মাগফিরলি” বলা, তারপর আবার দ্বিতীয় সিজদা। দুই সিজদা শেষ হলে এক রাকাত পূর্ণ হয়।
দ্বিতীয় রাকাতে আবার সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ে রুকু-সিজদা করতে হয়। দুই রাকাতের নামাজে দ্বিতীয় সিজদার পর বৈঠকে বসা। চার রাকাতের নামাজে দ্বিতীয় রাকাতের পর সংক্ষিপ্ত বৈঠক, চতুর্থ রাকাতে পূর্ণ বৈঠক।
শেষ বৈঠক ও সালাম
শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া। “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি…” পুরোটা। তারপর দুরূদ শরীফ—আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ…। এর পর দোয়া মাসুরা বা অন্য কোনো কুরআনি দোয়া পড়া যায়। সবশেষে ডান দিকে তাকিয়ে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ”, বাম দিকেও একই কথা বলে সালাম ফেরানো। এতে নামাজ শেষ।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ও রাকাত সংখ্যা
ফজর: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। দুই রাকাত ফরজ। জোহর: সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে আসরের আগ পর্যন্ত। চার রাকাত ফরজ। আসর: জোহরের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। চার রাকাত ফরজ। মাগরিব: সূর্যাস্তের পর থেকে লাল আভা মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। তিন রাকাত ফরজ। এশা: মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে মধ্যরাত বা সুবহে সাদিক পর্যন্ত। চার রাকাত ফরজ।
এছাড়া সুন্নত নামাজও আছে। ফজরের আগে দুই রাকাত, জোহরের আগে চার ও পরে দুই, মাগরিবের পরে দুই, এশার পরে দুই। এগুলো পড়লে সওয়াব বেশি হয়।
নামাজের ভিতরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
নামাজে মনযোগ রাখা খুব জরুরি। চোখ বন্ধ করে না, সামনের দিকে তাকিয়ে। হাত-পা নড়াচড়া না করা। কাশি বা হাই আসলে দাঁত দিয়ে চেপে রাখা। নামাজের মধ্যে কথা বলা বা হাসা একদম নিষেধ। ভুল হলে সাহু সিজদা করতে হয়।
মহিলাদের নামাজে কিছু পার্থক্য আছে। হাত বাঁধার জায়গা, সিজদার সময় শরীর গুটিয়ে রাখা ইত্যাদি। তবে মূল নিয়ম একই।
নামাজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
নামাজ শুধু একটা ইবাদত নয়। এটা দিনে পাঁচবার আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ। যখন রুকুতে যাই, তখন নিজের অহংকার ভাঙি। সিজদায় কপাল মাটিতে রাখি, তখন সবচেয়ে কাছে চলে যাই আল্লাহর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাজ ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী বিষয়।
নিয়মিত নামাজ পড়লে মন শান্ত হয়। রাগ কমে। ধৈর্য বাড়ে। সমাজেও এর প্রভাব পড়ে। যারা নামাজি, তারা সাধারণত সৎ থাকার চেষ্টা করেন। কারণ তারা জানেন একটু পরেই আবার আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে।
নামাজ ছুটে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজা পড়ে নিতে হয়। অজু না থাকলে তায়াম্মুম করা যায় যদি পানি না পাওয়া যায়। অসুস্থ হলে বসে বা শুয়েও পড়া যায়।
এই নিয়মগুলো মুখস্থ করে ফেললেই হয় না। প্রতিদিন চর্চা করতে হয়। প্রথমে এক ওয়াক্ত দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে পাঁচ ওয়াক্তে নিয়ে আসুন। ভুল হলে লজ্জিত হবেন না। আল্লাহ ক্ষমাশীল। তিনি দেখেন আপনার চেষ্টা।
নামাজের মাধ্যমেই মানুষ আসল শান্তি পায়। দুনিয়ার সব ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি থেমে আল্লাহর দিকে মুখ ফেরানো—এটাই সবচেয়ে বড় নিয়ামত। প্রতিদিন এই নিয়ামতকে কাজে লাগান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের ওপর অটল রাখুন। আমীন।
নামাজের নিয়মাবলি: ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও বিধিবদ্ধ অনুশীলন সম্পর্কে
নামাজের নিয়মাবলি: ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও বিধিবদ্ধ অনুশীলন ইসলামের মৌলিক জ্ঞানের একটি বিষয়।
নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। এ কথাটা শুধু মুখে বললেই হয় না। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করাটা একজন মুমিনের জন্য ফরজ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বারবার নামাজের কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নামাজকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যেন এটা ঈমানের মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে একটা।নামাজ শুধু কয়েকটা রাকাত পড়ে ফেলা...
আরও বিষয় দেখতে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান সেকশনে যান।