অজু করার সঠিক নিয়ম: শুদ্ধভাবে ইবাদতের পূর্বশর্ত
ইসলামের মৌলিক জ্ঞান · তথ্যবক্স



বিস্তারিত বিবরণ
অজু ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। নামাজসহ আরও অনেক ইবাদতের আগে এটা করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা সূরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করে বলেছেন—যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন মুখ ধোবে, কনুই পর্যন্ত হাত ধোবে, মাথা মাসেহ করবে আর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধোবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যেভাবে অজু করতেন, সেটাই আমাদের জন্য আদর্শ। সহীহ হাদিসে সেই পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে এসেছে।
অজু শুরু করার আগে মনে মনে নিয়ত করতে হয়—আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে অজু করছি। মুখে বলার দরকার নেই, অন্তরে থাকলেই যথেষ্ট। তারপর বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতে হয়।
প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধুতে হয়। ডান হাত দিয়ে শুরু করা ভালো। আঙুলের ফাঁকে আর আংটি থাকলে তার নিচে পানি যেন পৌঁছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে তিনবার ভালো করে কুলি করতে হয়। একইভাবে তিনবার নাকে পানি টেনে নিয়ে বাম হাত দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হয়।
তারপর পুরো মুখমণ্ডল তিনবার ধুতে হয়। মুখমণ্ডলের সীমা হলো কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত আর এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত। দাড়ি থাকলে আঙুল দিয়ে খিলাল করে পানি পৌঁছাতে হয়।
এরপর ডান হাত কনুইসহ তিনবার ধুতে হয়, তারপর বাম হাতও একইভাবে। কনুইয়ের ওপর পর্যন্ত পানি পৌঁছানো জরুরি। তারপর নতুন করে হাত ভিজিয়ে মাথা মাসেহ করতে হয়। হাতের তালু দিয়ে মাথার সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে হয়, আবার পেছন থেকে সামনে এনে আনতে হয়। একই ভেজা হাত দিয়ে কানের ভিতর আর বাইরের অংশও মাসেহ করতে হয়।
সবশেষে ডান পা গোড়ালিসহ তিনবার ধুতে হয়, তারপর বাম পা। পায়ের আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছানো আর গোড়ালির পেছনের অংশ ভালো করে ধোয়া খুবই জরুরি।
অজুর সময় প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়। কোনো অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই পরের অঙ্গ ধোয়া শুরু করতে হয়। অজু শেষে এই দোয়া পড়া সুন্নত—
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজআলনি মিনাত তাউয়াবিনা ওয়াজআলনি মিনাল মুতাতাহহিরিন।
এভাবে শুদ্ধভাবে অজু করলে নামাজ আদায়ের যোগ্যতা অর্জিত হয়। অজুর চারটি ফরজ হলো—মুখমণ্ডল ধোয়া, কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়া, মাথা মাসেহ করা আর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধোয়া। এগুলোর কোনো একটা বাদ পড়লে কিংবা কোনো জায়গায় পানি না পৌঁছলে অজু শুদ্ধ হয় না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুসারে প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া আর মাথা একবার মাসেহ করাই পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি।
অজু করার সঠিক নিয়ম: শুদ্ধভাবে ইবাদতের পূর্বশর্ত সম্পর্কে
অজু করার সঠিক নিয়ম: শুদ্ধভাবে ইবাদতের পূর্বশর্ত ইসলামের মৌলিক জ্ঞানের একটি বিষয়।
অজু ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। নামাজসহ আরও অনেক ইবাদতের আগে এটা করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা সূরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করে বলেছেন—যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন মুখ ধোবে, কনুই পর্যন্ত হাত ধোবে, মাথা মাসেহ করবে আর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধোবে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যেভাবে অজু করতেন, সেটাই...
আরও বিষয় দেখতে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান সেকশনে যান।