রোজা পালনের নিয়মাবলি: ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ
ইসলামের মৌলিক জ্ঞান · তথ্যবক্স
বিস্তারিত বিবরণ
রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের চতুর্থটি। আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে পরিষ্কার বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের লোকদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
রমজানের প্রতিদিনের রোজা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ আর সক্ষম মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ। মুসলমান, বালেগ, সুস্থ এবং সফরে না থাকলে এই মাসে রোজা রাখা অবশ্যই কর্তব্য। নারীদের হায়েজ বা নেফাস চলাকালীন রোজা রাখা যায় না। সেই দিনগুলোর রোজা পরে কাজা করে নিতে হয়।
রোজার আসল কথা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো কিছু না খাওয়া, না পান করা, যৌন মিলন না করা এবং রোজা ভাঙার মতো অন্য কোনো কাজ না করা। রোজা শুরুর আগে নিয়ত করতে হয়। মনে মনে নিয়ত করলেই হয়, মুখে বলার দরকার নেই। রাত থেকেই পরের দিনের রোজার নিয়ত করে রাখা ভালো।
সুবহে সাদিকের আগে সাহরি খাওয়া সুন্নত। এতে বরকত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরি খেতে বলেছেন এবং বলেছেন সাহরিতে বরকত রয়েছে। সাহরি শেষ করে ফজরের আজানের আগেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করতে হয়।
দিনের বেলায় জেনেশুনে কিছু খেলে বা পান করলে, যৌন মিলন করলে, ইচ্ছাকৃত বমি করলে কিংবা পেটে কিছু প্রবেশ করার মতো কাজ করলে রোজা ভেঙে যায়। ভুলে খেয়ে ফেললে বা পান করলে রোজা নষ্ট হয় না। মনে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে থেমে যেতে হয়। অসুস্থতা, সফর বা অন্য কোনো শরয়ি ওজর থাকলে রোজা ভাঙা যায়, পরে কাজা আদায় করতে হয়।
জেনেশুনে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে কাজা ছাড়াও কাফফারা দিতে হয়। সেটা হলো একজন দাস মুক্ত করা, অথবা টানা ষাট দিন রোজা রাখা, অথবা ষাটজন মিসকিনকে খাবার দেওয়া—এর যেকোনো একটি।
সূর্যাস্ত হওয়ার সাথে সাথেই ইফতার করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাড়াতাড়ি ইফতার করতেন আর খেজুর বা পানি দিয়ে শুরু করতেন। ইফতারের আগে দোয়া পড়া ভালো।
রোজা রাখার সময় মিথ্যা কথা, গীবত, ঝগড়া, অশ্লীল কথা বা অন্য কোনো গুনাহ থেকে দূরে থাকা জরুরি। এগুলো রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয় আর রোজার আসল উদ্দেশ্য নষ্ট করে।
রোজার মাধ্যমে মানুষ নিজের নফসকে সামলাতে শেখে, আত্মশুদ্ধি পায় এবং আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও তাকওয়া বাড়ে। রমজানে যারা রোজা রাখে, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মাগফিরাতের অধিকারী হয়।
রোজা পালনের নিয়মাবলি: ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ সম্পর্কে
রোজা পালনের নিয়মাবলি: ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ ইসলামের মৌলিক জ্ঞানের একটি বিষয়।
রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের চতুর্থটি। আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে পরিষ্কার বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের লোকদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”রমজানের প্রতিদিনের রোজা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ আর সক্ষম মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ। মুসলমান,...
আরও বিষয় দেখতে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান সেকশনে যান।