National

১৫ আগস্ট: জাতীয় শোক দিবস

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৭৬
Aug15

তারিখ ও বার

15 August, 2026

শনিবার

১৫ আগস্ট: জাতীয় শোক দিবস - Totthobox Holiday

বিস্তারিত বিবরণ

১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত বেদনাবিধুর এবং কলঙ্কজনক একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে দিনটি বাংলাদেশে 'জাতীয় শোক দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়ে এসেছে, তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এর সরকারি পালনের মর্যাদায় পরিবর্তন এসেছে।


ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে অতর্কিত হামলা চালায়। এই নির্মম হামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নিহত হন। একই সাথে তাঁদের তিন ছেলে—শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের অনেক সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করা হয়। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল না, বরং সদ্য স্বাধীন একটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ফেলেছিল।


বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া

হত্যাকাণ্ডের পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বা দায়মুক্তি আইন জারি করে খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়, যা স্বাধীন দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি কালো অধ্যায়ের জন্ম দেয়। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালে এবং পরবর্তীতে কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

দিবসটি পালনের ইতিহাস ও বর্তমান মর্যাদা


বাংলাদেশে ১৫ আগস্ট সরকারি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের ইতিহাস বিভিন্ন সময় সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে:

  1. শোক দিবস ঘোষণা: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো ১৫ আগস্টকে 'জাতীয় শোক দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে এবং দিনটিতে সরকারি ছুটি প্রদান করে।
  2. বাতিল ও পুনর্বহাল: ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। তবে ছয় বছর পর ২০০৮ সালে হাইকোর্টের এক আদেশের প্রেক্ষিতে ১৫ আগস্টকে পুনরায় জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়। এরপর থেকে টানা দেড় দশক দিনটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিনটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো ব্যাজ ধারণ করার মতো আনুষ্ঠানিকতা ছিল।
  3. সাম্প্রতিক পরিবর্তন: ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫ আগস্টের সাধারণ ছুটি বাতিল করে। পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর সরকার একটি নতুন পরিপত্র জারি করে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত জাতীয় দিবসের তালিকা থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেয়।


উপসংহার

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মর্মান্তিক ও কালো অধ্যায়। রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিকতায় বিভিন্ন সময় পরিবর্তন এলেও, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং এর ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর রেখাপাত করে আছে। জ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনটি দেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত।

১৫ আগস্ট: জাতীয় শোক দিবস সম্পর্কে

১৫ আগস্ট: জাতীয় শোক দিবস হলো বাংলাদেশের National ছুটি। তারিখ: 15 August, 2026 (শনিবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১৫ আগস্ট: জাতীয় শোক দিবস কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
১৫ আগস্ট: জাতীয় শোক দিবস – 15 August 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox