ঐচ্ছিক ছুটি (মুসলিম)

আখেরী চাহার সোম্বা

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

২৪৭
Aug12

তারিখ ও বার

12 August, 2026

বুধবার

বিস্তারিত বিবরণ

"আখেরী চাহার সোম্বা" (আখেরি চাহার শোম্বা বা আখেরি চাহার শম্বা নামেও পরিচিত) হলো হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবার। এটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশ (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান), আফগানিস্তান ও ইরানের কিছু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পালিত একটি স্মারক দিবস।


নামের অর্থ

“আখেরী” আরবি শব্দ, অর্থ “শেষ”। “চাহার সোম্বা” (বা চাহার শোম্বা) ফারসি শব্দ, অর্থ “বুধবার”। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়—"সফর মাসের শেষ বুধবার"।


১১ হিজরির সফর মাসের শুরুতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে তিনি নামাজের ইমামতিও করতে পারছিলেন না। সফর মাসের শেষ বুধবার (কিছু বর্ণনায় ২৮ সফর বা ২৬ সফর) তিনি সাময়িকভাবে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেন। সেদিন তিনি গোসল করেন এবং শেষবারের মতো মসজিদে নববিতে নামাজের ইমামতি করেন।


এই খবরে মদিনাবাসী ও সাহাবিগণ খুশি হন। কেউ কেউ দাস মুক্ত করে দেন, কেউ দান-খয়রাত করেন। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়—আবু বকর (রা.) ৫ হাজার দিরহাম, উমর (রা.) ৭ হাজার, উসমান (রা.) ১০ হাজার, আলী (রা.) ৩ হাজার দিরহাম এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ১০০ উট দান করেছিলেন।


তবে এরপর তাঁর অসুস্থতা আবার বাড়ে এবং ১২ রবিউল আউয়াল (মতভেদ আছে) তিনি ইন্তেকাল করেন।


**গুরুত্বপূর্ণ নোট:** সহিহ হাদিস বা নির্ভরযোগ্য সিরাত গ্রন্থে এই নির্দিষ্ট তারিখ ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না। ইবনে ইসহাকসহ কিছু ইতিহাসবিদ অসুস্থতার শুরু সফরের শেষ দিকে বা রবিউল আউয়ালের শুরুতে বলেছেন। অনেক আলেম মনে করেন, নির্দিষ্ট তারিখ ও সাহাবিদের দানের বিবরণ পরবর্তীকালের লোককাহিনি।


কীভাবে পালন করা হয়

দিবসটিকে মূলত **শুকরিয়া দিবস** হিসেবে পালন করা হয়। সাধারণ অনুশীলনগুলো হলো:

- গোসল করা

- দুই রাকাত শোকরানা নফল নামাজ পড়া

- রোগমুক্তি ও কল্যাণের দোয়া করা

- দান-সদকা করা

- মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকায় ওয়াজ, জিকির, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন


বাংলাদেশে এটি ঐচ্ছিক সরকারি ছুটির দিন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। কিছু স্থানে কুরআনের “সাত সালাম” আয়াত লিখে জাফরানি পানিতে ধুয়ে পান করার প্রথাও আছে (যা কুসংস্কার বলে অনেকে মনে করেন)।


আলেমদের মতভেদ

- অনেক ঐতিহ্যবাহী ও সুফি-অনুসারী আলেম এটিকে নবীজির স্মৃতিচারণ ও শুকরিয়ার দিন হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন।

- অপরদিকে অনেক গবেষক আলেম (বিশেষ করে সালাফি/দেওবন্দি ধারার) একে **বিদআত** বলেন। তাদের যুক্তি:

- সহিহ হাদিসে এই দিনকে বিশেষভাবে নির্ধারণ বা আমলের নির্দেশ নেই।

- নির্দিষ্ট তারিখ, গোসলের শেষবার হওয়া বা সাহাবিদের দানের বিবরণ নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত নয়।

- বিশেষ আমল (নির্দিষ্ট নামাজ, রোজা ইত্যাদি) তৈরি করে সওয়াবের আশায় পালন করলে তা বিদআত হয়ে যায়।


রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করে যার উপর আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।”


সারকথা

আখেরী চাহার সোম্বা একটি আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও স্মারক দিবস। এটি নবীজির অসুস্থতা ও সাময়িক সুস্থতার স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। তবে এটি কোনো ফরজ বা সুন্নত দিবস নয়। কেউ শুকরিয়া ও দানের নিয়তে সাধারণ আমল করলে তা ভালো, কিন্তু বিশেষ ফজিলতের দাবি করে বা বাধ্যতামূলক করে পালন করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সমর্থিত নয়।


সঠিক জ্ঞান ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমল করাই উত্তম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখান।

আখেরী চাহার সোম্বা সম্পর্কে

আখেরী চাহার সোম্বা হলো বাংলাদেশের ঐচ্ছিক ছুটি (মুসলিম) ছুটি। তারিখ: 12 August, 2026 (বুধবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আখেরী চাহার সোম্বা কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
আখেরী চাহার সোম্বা – 12 August 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox