Executive

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৪২
Mar17

তারিখ ও বার

17 March, 2026

মঙ্গলবার

বিস্তারিত বিবরণ

বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় জীবনে ১৭ই মার্চ এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্ব, অপরিসীম ত্যাগ এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছে।

একই সাথে, শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম স্নেহ, প্রীতি ও চিন্তাভাবনাকে সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর এই দিনটিকে বাংলাদেশে 'জাতীয় শিশু দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপন করা হয়।


১. ঐতিহাসিক পটভূমি ও বঙ্গবন্ধুর শৈশব

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ (৩ চৈত্র ১৩২৬ বঙ্গাব্দ) তত্কালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন গোপালগঞ্জ দেওয়ানি আদালতের সেরস্তাদার এবং মাতা সায়েরা খাতুন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আদর করে 'খোকা' বলে ডাকতেন।

  1. শৈশবের মানসিকতা: টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয়। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও পরোপকারী। নিজের গায়ের জামা বা ছাতা সহপাঠী ও দরিদ্র মানুষকে দিয়ে দেওয়ার মতো উদারতা তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখিয়েছেন।
  2. নেতৃত্বের উন্মেষ: কৈশোরেই তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৩৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন পিরিয়ডিকাল পরিদর্শনে আসা রাজনৈতিক নেতাদের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভার প্রথম প্রকাশ ঘটে।

২. জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ১৭ মার্চের সূচনা

শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশ গড়ার মূল কারিগর। বঙ্গবন্ধুর এই শিশুপ্রেম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি তাঁর ভাবনাকে স্মরণে রেখে ১৯৯৬ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ১৭ই মার্চকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ১৯৯৭ সাল থেকে দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিত উদযাপিত হয়ে আসছে।

শিশু কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর পদক্ষেপসমূহ

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু বেশ কিছু ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন:

১. প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ (১৯৭৩): দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন ও অবৈতনিক করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু প্রায় ৩৬,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন।

২. শিশু আইন প্রণয়ন (১৯৭৪): শিশুদের নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) গ্রহণেরও বহু আগে ১৯৭৪ সালের ২২ জুন বাংলাদেশে 'শিশু আইন' (Children Act, 1974) প্রণয়ন করা হয়।

৩. শিশু একাডেমি ও পুষ্টি পরিষদ গঠন: শিশুদের মানস গঠনে ও বিকাশে 'বাংলাদেশ শিশু একাডেমি' প্রতিষ্ঠার ভিত্তি এবং জাতীয় পুষ্টি পরিষদ গঠন করা হয়।


৩. উদযাপনের রূপরেখা ও কর্মসূচিসমূহ

১৭ই মার্চ উপলক্ষে প্রতি বছর দেশজুড়ে নানা অর্থবহ ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়:

  1. টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা নিবেদন: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ, গার্ড অব অনার প্রদান এবং বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
  2. জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু সমাবেশ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি: দেশের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণের ব্যবস্থা থাকে।
  4. গণমাধ্যমের ভূমিকা: জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয় এবং বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হয়।

৪. এক নজরে ১৭ই মার্চ ও জাতীয় শিশু দিবস

অনুষঙ্গতথ্য ও বিবরণ
তারিখ১৭ই মার্চ (প্রতি বছর)
জন্ম সাল ও স্থান১৯২০ খ্রিস্টাব্দ; টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ
পিতা-মাতাশেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুন
জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণার বছর১৯৯৬ সাল (অফিসিয়াল উদযাপন ১৯৯৭ থেকে)
ঐতিহাসিক শিশু আইন১৯৭৪ সালের ২২ জুন প্রণীত 'শিশু আইন'
মূল চেতনাশিশুর সুরক্ষা, শিক্ষা, বিকাশ ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন অনুধাবন

৫. দিনটির জাতীয় ও সামাজিক গুরুত্ব

১৭ই মার্চ কেবল একটি জন্মবার্ষিকী বা উদযাপনমূলক দিন নয়; এটি একটি সুদূরপ্রসারী জাতীয় অঙ্গীকারের দিন।

  1. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিকাশ: নতুন প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই দিনের গুরুত্ব অপরিসীম।
  2. শিশু অধিকার ও সুরক্ষা: শিশুশ্রম নিরসন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ এবং সকল শিশুর জন্য সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বার্তা পুনরুচ্চারণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হলো একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সৃজনশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা। ১৭ই মার্চের জাতীয় শিশু দিবস আমাদের সেই সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস সম্পর্কে

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস হলো বাংলাদেশের Executive ছুটি। তারিখ: 17 March, 2026 (মঙ্গলবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস – 17 March 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox