যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড় দিন)
ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য
তারিখ ও বার
25 December, 2026
শুক্রবার



বিস্তারিত বিবরণ
বড়দিন বা ক্রিসমাস (Christmas) খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে এই দিনটি অত্যন্ত জাঁকজমক ও শ্রদ্ধার সাথে উদযাপিত হয়। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু হলেন ঈশ্বরের পুত্র এবং মানবজাতির ত্রাণকর্তা। কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বড়দিন বর্তমানে সারাবিশ্বে একটি সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাস ও উৎপত্তি
ঐতিহাসিকভাবে, পবিত্র বাইবেলে যিশু খ্রিস্টের জন্মের কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই। আদি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম দিকে যিশুর জন্মদিন উদযাপনের কোনো প্রথা ছিল না। পরবর্তীতে, রোমান সাম্রাজ্যের সময়কালে ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যিশুর জন্মদিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টিনের শাসনামলে প্রথমবারের মতো ২৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বড়দিন উদযাপিত হয় বলে ইতিহাসবিদগণ মনে করেন। এরপর পোপ জুলিয়াস (প্রথম) আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটিকে যিশুর জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করেন। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, প্রাচীন রোমানদের শীতকালীন উৎসব 'স্যাটার্নালিয়া' (Saturnalia) এবং 'অজেয় সূর্যের' (Sol Invictus) জন্মদিনের উৎসবের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খ্রিস্টান ধর্মগুরুরা এই দিনটিকে বেছে নিয়েছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন পৌত্তলিক ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের একটি খ্রিস্টীয় বিকল্প প্রদান করা।
ধর্মীয় তাৎপর্য
খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের কাছে বড়দিন কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা এবং ভালোবাসার প্রতীক। তাদের বিশ্বাস মতে, ঈশ্বর মানুষকে পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে এবং পৃথিবীতে শান্তি ও সত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে যিশুকে মানব রূপে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন। খ্রিস্টীয় তত্ত্বে এই ঘটনাকে 'ইনকারনেশন' (Incarnation) বা ঈশ্বরের মানব রূপ ধারণ বলা হয়। গোয়ালঘরে যিশুর সাধারণ ও অনাড়ম্বর জন্ম মানবজাতির জন্য বিনয়, আশা ও পরিত্রাণের বার্তা বহন করে।
ঐতিহ্য ও উদযাপন
বড়দিনের উৎসবকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে:
- মিডনাইট মাস (Midnight Mass): ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে অর্থাৎ ক্রিসমাস ইভ-এ গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়, যা বড়দিন উদযাপনের প্রধান ধর্মীয় অংশ। এখানে যিশুর জন্মের কাহিনী পাঠ করা হয় এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।
- ক্রিসমাস ট্রি (Christmas Tree): ফার, পাইন বা স্প্রুস গাছকে আলো, তারা এবং রঙিন বল দিয়ে সাজানো বড়দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। চিরসবুজ এই গাছগুলো অনন্ত জীবন ও আলোকের প্রতীক।
- সান্তা ক্লজ (Santa Claus): শিশুদের কাছে বড়দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলেন সান্তা ক্লজ। চতুর্থ শতাব্দীর সেন্ট নিকোলাস নামক একজন দয়ালু খ্রিস্টান বিশপের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে সান্তা ক্লজের ধারণাটি জনপ্রিয় হয়েছে, যিনি গোপনে শিশুদের উপহার দিতেন।
- উপহার প্রদান ও ক্রিসমাস ক্যারোল: পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে উপহার বিনিময় বড়দিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া দলবেঁধে যিশুর জন্মবার্তামূলক গান বা 'ক্রিসমাস ক্যারোল' গাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
- বিশেষ ভোজ: বড়দিনে প্রতিটি পরিবারে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশে এর ভিন্নতা থাকলেও প্লাম কেক, টার্কি রোস্ট এবং পুডিং ঐতিহাসিকভাবে বড়দিনের বিশেষ খাবার হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে বড়দিন
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ২৫ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিন। বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করেন। বড়দিনের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই গির্জা এবং বাড়িঘর আলোকসজ্জায় সাজানো হয়। প্রতিটি গির্জায় এবং অনেক বাড়িতে প্রতীকী 'গোশালা' বা 'ক্রিব' (যেখানে যিশুর জন্ম হয়েছিল তার মিনিয়েচার) তৈরি করা হয়। বড়দিনের দিন সকালে বিশেষ প্রার্থনার পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে কেক ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ দেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষও সম্প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ এই উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন, যা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বড়দিন বা যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন মানবজাতিকে শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি এবং ক্ষমার শিক্ষা দেয়। আধুনিক বিশ্বে সকল ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের ক্ষেত্রে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।
যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড় দিন) সম্পর্কে
যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড় দিন) হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 25 December, 2026 (শুক্রবার)।