ঈদুল আযহার আগের দিন
ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য
তারিখ ও বার
27 May, 2026
বুধবার



বিস্তারিত বিবরণ
পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদের ঠিক আগের দিনটি ইসলাম ধর্মে বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম দিন হিসেবে পরিগণিত। হিজরি জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অনুষ্ঠিত এই দিনটিকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইয়াওমে আরাফাহ’ (يوم عرفة) বা ‘আরাফার দিন’ বলা হয়। এই দিনটি একদিকে যেমন পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার দিন, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত সাধারণ মুসলিমদের জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা, রহমত ও অশেষ সওয়াব অর্জনের এক মহাসুযোগ।
ইয়াওমে আরাফাহ বা আরাফার দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
- হজের মূল রুকন: হজ পালনের জন্য মক্কায় আগত লাখ লাখ হাজী এই দিনে মক্কার নিকটবর্তী ঐতিহাসিক ‘আরাফাতের ময়দানে’ সমবেত হন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ৯ জিলহজ জোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের সবচেয়ে বড় ও অবশ্যপালনীয় রুকন (ফারজ)। মহানবী (সা.) বলেছেন, “আরাফাতে অবস্থান করাই হলো হজ।” (তিরমিজি)।
- দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা লাভ: এই আরাফাতের ময়দানেই জিলহজ মাসের ৯ তারিখে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক ‘বিদায় হজের খুতবা’ প্রদান করেছিলেন। এই দিনেই মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুনির্দিষ্ট আয়াত নাজিল করে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে ঘোষণার চূড়ান্ত বার্তা দেন:
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়েদা: ৩)।
আরাফার দিনের বিশেষ ফজিলত
হাদিস শরিফে ৯ জিলহজ বা ঈদুল আযহার আগের দিনের বহু ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
- জাহান্নাম থেকে মুক্তির দিন: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, “আরাফার দিনের চেয়ে অন্য কোনো দিন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এত অধিক সংখ্যায় জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।” (সহিহ মুসলিম)।
- দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ দিন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।” (তিরমিজি)। এই দিনে আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী আকাশে আগমন করেন এবং আরাফাতের ময়দানে তাওবাকারী বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব প্রকাশ করেন।
সাধারণ মুসলিমদের জন্য ঈদের আগের দিনের প্রধান আমল ও বিধান
যাঁরা হজে যেতে পারেননি, তাঁদের জন্যও ঈদুল আযহার আগের দিন সুনির্দিষ্ট কিছু ইবাদত ও আমল রয়েছে:
১. আরাফার দিনের নফল রোজা (৯ জিলহজের রোজা)
যাঁরা হজে যাননি, তাঁদের জন্য ৯ জিলহজ রোজা রাখা অত্যন্ত মুস্তাহাব ও সওয়াবের কাজ।
- ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এটি পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষমা) হিসেবে গণ্য হবে।” (সহিহ মুসলিম)।
২. তাকবীরে তাশরীক পাঠের সূচনা
ঈদুল আযহার আগের দিন অর্থাৎ ৯ জিলহজ ফজর নামাজ থেকে শুরু হয় ওয়াজিব আমল ‘তাকবীরে তাশরীক’।
তাকবীরে তাশরীক: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু واللهু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
- সময়সীমা: ৯ জিলহজ ফজর থেকে শুরু হয়ে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত) প্রতিটি ফরজ নামাজের পর অন্তত একবার এই তাকবীর স্বরবে (পুরুষরা) ও নীরবে (নারীরা) পাঠ করা ওয়াজিব।
৩. জিকির, আসতাগফার ও তওবা
এই দিনে বেশি বেশি আল্লাহ তাআলার জিকির, ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) এবং তাওহীদের জিকির বা কালিমায়ে তায়্যিবা পাঠ করা অত্যন্ত উত্তম।
৪. ঈদের পূর্ব প্রস্তুতি
পরদিনের ঈদুল আযহার নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ, কোরবানির স্থান ও সরঞ্জাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং ঈদের দিনের সুন্নাতসমূহ পালনের প্রস্তুতি এই দিনেই সম্পন্ন করা হয়।
সংক্ষেপে এক নজরে
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও নির্দেশিকা |
| আরবি তারিখ | ৯ জিলহজ (ইয়াওমে আরাফাহ) |
| হাজীদের মূল আমল | আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (হজের প্রধান ফারজ) |
| সাধারণদের রোজা | ১ বছরের অতীত ও ১ বছরের ভবিষ্যৎ গুনাহ মাফের মাধ্যম |
| তাকবীরে তাশরীক | ৯ জিলহজ ফজর নামাজ থেকে স্বরবে/নীরবে পাঠ করা ওয়াজিব |
সামাজিক ও মানসিক প্রস্তুতি
ঈদুল আযহার আগের দিনটি কেবল কেনাকাটা বা কোরবানি পশুর দেখাশোনার ব্যস্ততার জন্য নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির এক মোক্ষম সময়। মনের ভেতরের হিংসা-বিদ্বেষ ও পাপ দূর করে তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন এবং পরদিনের ত্যাগের মহিমাকে অন্তরে ধারণ করার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্য দিয়েই এই বরকতময় দিনটি অতিবাহিত করা উচিত।
ঈদুল আযহার আগের দিন সম্পর্কে
ঈদুল আযহার আগের দিন হলো বাংলাদেশের Religious ছুটি। তারিখ: 27 May, 2026 (বুধবার)।