Religious

শারদীয় দুর্গাপূজা (অষ্টমী ও নবমী)

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৪৩
Oct19

তারিখ ও বার

19 October, 2026

সোমবার

বিস্তারিত বিবরণ

শারদীয় দুর্গোৎসবের সুদীর্ঘ পঞ্চদিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ‘মহাঅষ্টমী’ এবং ‘মহানবমী’ হলো সবচেয়ে প্রাণবন্ত, গুরুত্বপূর্ণ এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ দুটি দিন। ষষ্ঠী থেকে শুরু হওয়া দেবীর আবাহনের পর অষ্টমী ও নবমীতে এসে পূজার আনন্দ ও আধ্যাত্মিকতা চরম শিখরে পৌঁছায়। ধর্মীয় আচার, উপবাস, মহাঅঞ্জলি, কুমারী পূজা, সন্ধিপূজা এবং আরতির বর্ণিল আয়োজনে এই দুই দিন সমগ্র মণ্ডপ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

মহাঅষ্টমী: ভক্তি, অঞ্জলি ও সন্ধিপূজার মাহাত্ম্য

মহাঅষ্টমীকে দুর্গাপূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনটিতে দেবী দুর্গার ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ রূপের পূর্ণ বিকাশ ঘটে।

১. পুষ্পাঞ্জলি

অষ্টমীর সকালে উপবাস থেকে ভক্তদের দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষঙ্গ। আবালবৃদ্ধবনিতা নতুন পোশাক পরিধান করে হাতে ফুল ও বেলপাতা নিয়ে পুরোহিতের সাথে উচ্চারিত সমবেত মন্ত্রের মাধ্যমে দেবীর কাছে স্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন।

২. কুমারী পূজা

মহাঅষ্টমীর অন্যতম পবিত্র ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান হলো কুমারী পূজা। এক থেকে ষোলো বছর বয়সী কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশুকে দেবীর জীবন্ত রূপ হিসেবে কল্পনা করে বস্ত্র, অলঙ্কার ও পুষ্পমাল্যে সাজিয়ে পূজা করা হয়।

  1. মূল ভাবধারা: নারীজাতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, সর্বজনীন মাতৃভাবের জাগরণ এবং পরম শক্তি যে সকল নারীর মাঝেই সুপ্ত রয়েছে—এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই কুমারী পূজার মূল দর্শন। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুর মঠে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এই কুমারী পূজার পুনশ্চ প্রবর্তন করেন।

৩. ঐতিহাসিক সন্ধিপূজা (Sandhi Puja)

মহাঅষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং মহানবমীর সূচনার প্রথম ২৪ মিনিট—এই মোট ৪৮ মিনিটের বিশেষ মুহূর্তকে ‘সন্ধিক্ষণ’ বলা হয়। এই সময়েই অনুষ্ঠিত হয় দুর্গোৎসবের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও আধ্যাত্মিক ritual ‘সন্ধিপূজা’।

  1. পৌরাণিক প্রেক্ষাপট: পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, এই সন্ধিক্ষণেই দেবী দুর্গা অসুর বাহিনীর দুই সেনাপতি ‘চণ্ড’ ও ‘মুণ্ড’-কে বধ করার জন্য চরম ক্রুদ্ধ রূপ ধারণ করেছিলেন, যা ‘দেবী চামুণ্ডা’ নামে পরিচিত।
  2. আচার: সন্ধিপূজায় দেবীর চরণে ১০৮টি নীল পদ্ম অর্পণ করা হয় এবং ১০৮টি ঘিয়ের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। ঢাকের তীব্র বাদ্য এবং ধূপের ধোঁয়ায় এই সময় মণ্ডপে এক অলৌকিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মহানবমী: অশুভ শক্তির বিনাশ ও বিজয়ের উল্লাস

মহানবমী হলো যুদ্ধের শেষ দিন এবং দেবীর পরম বিজয়ের প্রতীক। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, নবমী তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে আসুরিক শক্তির হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন।

১. মহানবমীর হোম ও যজ্ঞ

নবমীর দিন সকালে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে মহাস্নান ও ষোড়শোপচারে পূজার পর ‘মহাযজ্ঞ’ বা ‘হোম’ অনুষ্ঠিত হয়। অগ্নিদেবকে সাক্ষী রেখে গায়ত্রী মন্ত্র ও দুর্গামন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে কাষ্ঠ, ঘি ও বেলপাতা আহুতি দেওয়া হয়। মহাবিশ্বের কল্যাণ এবং মানসিক শুভশক্তি জাগরণের উদ্দেশ্যে এই যজ্ঞ সম্পন্ন হয়।

২. ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ

নবমীতে দেবীকে বিশেষ ‘মহাভোগ’ অর্পণ করা হয়। সাধারণ দিনের তুলনায় নবমীর ভোগ হয় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। খিচুড়ি, নানা পদের সবজি ভাজা, লুচি, পায়েস, চাটনি এবং হরেক রকমের মিষ্টি দেবীকে নিবেদন করার পর তা উপস্থিত হাজারো ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়।

৩. প্রতীকী বলিদান

পৌরাণিক যুগের পশু বলির প্রথা আধুনিককালে প্রায় বিলুপ্ত। বর্তমানে নবমীর দিনে অশুভ শক্তি, মানুষের ভেতরের অহংকার ও কাম-ক্রোধ বিসর্জনের প্রতীক হিসেবে মণ্ডপগুলোতে চালকুমড়ো, আখ, কলা বা ছাঁচিকোড়ার মতো উদ্ভিজ্জ বলি দেওয়া হয়।

৪. ধুনুচি নাচ ও মহাসন্ধ্যা আরতি

মহানবমীর সন্ধ্যার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘ধুনুচি নাচ’। নারকেলের ছোবড়া, ধুনো ও কর্পূর দিয়ে জ্বালানো মাটির পাত্র (ধুনুচি) হাতে নিয়ে ঢাকের তালে তালে ভক্তরা দেবীর সামনে নৃত্য পরিবেশন করেন। ঢাকের ক্ষিপ্র তালের সাথে ধুনুচির ধোঁয়া ও আলোর খেলা নবমীর রাতকে এক উন্মাদনাময় ও আনন্দঘন রূপ দান করে।

মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর তুলনামূলক রূপরেখা

বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রমহাঅষ্টমীমহানবমী
প্রধান ধর্মীয় ভাবধারাগভীর আধ্যাত্মিকতা, নিবেদন ও মহাঅঞ্জলিবিজয়ের আনন্দ, শক্তির আরাধনা ও পূর্ণতা
বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানপুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজামহাযজ্ঞ (হোম), প্রতীকী বলিদান ও ধুনুচি নাচ
দেবী দুর্গার রূপমহিষাসুরমর্দিনী ও চামুণ্ডা রূপপরমেশ্বরী, অপরাজিতা ও বিজয়িনী রূপ
আবেগের স্বরূপপূজার মূল উৎসবে মেতে ওঠার আনন্দবিজয়ের উল্লাসের পাশাপাশি বিদায়ের প্রাক-বিষাদ

সামাজিক ও মানসিক তাৎপর্য

মহাঅষ্টমী ও মহানবমী কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও মেলবন্ধনের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে। সব ভেদাভেদ ভুলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই দুই দিন মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করেন, আড্ডায় মেতে ওঠেন এবং একত্রে খাবার গ্রহণ করেন।

শারদীয় দুর্গাপূজার এই দুই দিন মানবজাতিকে শিক্ষা দেয় যে, সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে যত বড় আসুরিক বা অশুভ শক্তিই আসুক না কেন, শেষ পর্যন্ত শুভ শক্তির বিজয় অবশ্যম্ভাবী। অষ্টমীর ভক্তি আর নবমীর বিজয়ের আমেজ শেষ হতেই দশমীর বিদায়-সুর বাজতে শুরু করে, যা বাঙালিকে পরবর্তী বছরের প্রতীক্ষায় রেখে যায়।

শারদীয় দুর্গাপূজা (অষ্টমী ও নবমী) সম্পর্কে

শারদীয় দুর্গাপূজা (অষ্টমী ও নবমী) হলো বাংলাদেশের Religious ছুটি। তারিখ: 19 October, 2026 (সোমবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শারদীয় দুর্গাপূজা (অষ্টমী ও নবমী) কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা (অষ্টমী ও নবমী) – 19 October 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox