Public

শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী)

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৭৭
Oct21

তারিখ ও বার

21 October, 2026

বুধবার

শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) - Totthobox Holiday
শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) - Totthobox Holiday
শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) - Totthobox Holiday
+ ১ টি

বিস্তারিত বিবরণ

শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। আশ্বিন বা কার্তিক মাসের নির্মল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, ঢাকের বাদ্য, কাঁসরের ঘণ্টা, ধূপের সুবাস এবং শিউলি ফুলের গন্ধে প্রকৃতি যখন মুখরিত হয়, তখন মর্ত্যধামে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত চার দিনব্যাপী মূল পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আর এই মহোৎসবের চরম ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ, আবেগঘন ও বর্ণিল পরিণতি ঘটে এর চূড়ান্ত পর্যায়—বিজয়া দশমীতে।

পৌরাণিক পটভূমি ও 'বিজয়া' শব্দের অর্থ

‘বিজয়া’ শব্দটি মূলত সত্য, ন্যায় ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। দেবী দুর্গার রূপ ও বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে প্রধানত দুটি পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে:

  1. মহিষাসুর বধ: সনাতন ধর্মগ্রন্থ (শ্রীশ্রীচণ্ডী) অনুযায়ী, স্বর্গের দেবগণকে বিতাড়িত করে অসুররাজ মহিষাসুর যখন স্বর্গরাজ্য দখল করে নেয়, তখন সকল দেবতার যৌথ তেজ থেকে দশভূজা দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। দেবী টানা নয় দিন নয় রাত অসুর বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার পর দশম দিনে মহিষাসুরকে বধ করেন এবং স্বর্গরাজ্যে পুনঃশান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। অশুভ অসুরের ওপর পরমেশ্বরী দেবীর এই পরম বিজয়ের স্মারক হিসেবেই দিনটির নাম ‘বিজয়া দশমী’।
  2. শ্রী রামচন্দ্রের অকালবোধন: ত্রেতাযুগে শ্রী রামচন্দ্র রাবণ বধের মাধ্যমে সীতাকে উদ্ধার করার জন্য শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেছিলেন। বিজয়া দশমীর দিনই রামচন্দ্র রাবণকে বধ করে বিজয় লাভ করেছিলেন বলে রামায়ণে বর্ণনা রয়েছে।

বিজয়া দশমীর প্রধান প্রধান আচার ও প্রথা

বিজয়া দশমী কেবল বিষাদের দিন নয়, বরং এটি শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন ও উৎসবের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এই দিনের প্রধান আচারগুলো হলো:

১. দর্পণ বিसर्जन (Darpan Visarjan)

দশমীর সকালে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে পূজার ইতি টানা হয়। একটি জলপূর্ণ পাত্রে দর্পণ (আয়না) রেখে তাতে দেবীর প্রতিবিম্ব দর্শন করা হয়, যা ‘দর্পণ বিसर्जन’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে দেবীর প্রাতিষ্ঠানিক পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং বিশ্বাস করা হয় দেবী সূক্ষ্ম রূপে পুনরায় স্বর্গে গমন করেন।

২. সিঁদুর খেলা (Sindoor Khela)

প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বে বিবাহিত নারীরা মণ্ডপে সমবেত হন। তারা দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর ও মিষ্টি অর্পণ করেন এবং পান-বোরন দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান। এরপর নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন, যা 'সিঁদুর খেলা' নামে পরিচিত। এই আচারটি সধবা নারীদের স্বামীর দীর্ঘায়ু, পরিবারের সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

৩. প্রতিমা বিसर्जन (Pratima Visarjan)

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা চার সন্তান—লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে মর্ত্যের বাপের বাড়ি ছেড়ে পুনরায় কৈলাশে স্বামী দেবদেব মহাদেব শিবের কাছে ফিরে যান। বৈকালে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে ঢাকের তালে তালে ও ‘শুভ বিজয়া’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে নদী, পুকুর বা জলাশয়ে দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিজয়া সম্মিলনী, কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ

প্রতিমা বিসর্জনের পর থেকেই শুরু হয় সামাজিক মেলবন্ধনের নতুন অধ্যায়—‘বিজয়া সম্মিলনী’। দেবীর মর্ত্য ত্যাগের বিরহকে ভুলে মানুষ প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়:

  1. প্রণাম ও আশীর্বাদ: কনিষ্ঠরা জ্যেষ্ঠ ও প্রবীণদের চরণ স্পর্শ করে প্রণাম জানায় এবং জ্যেষ্ঠরা ছোটদের স্নেহ ও শুভকামনা জানান।
  2. কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়: সমবয়সীদের মধ্যে হয় কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়। অতীতের সকল শত্রুতা, তিক্ততা ও ভেদাভেদ ভুলে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার এক মহান সুযোগ এনে দেয় এই বিজয়া দশমী।
  3. ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিমুখ: বিজয়ায় বাড়িতে আগত অতিথি ও স্বজনদের নারকেলের নাড়ু, তিলের খাজা, নিমকি, মোয়া এবং হরেক রকমের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা বাঙালির বহু পুরোনো সামাজিক প্রথা।

বিজয়া দশমীর সামাজিক ও মানবিক তাৎপর্য

তাৎপর্যের ক্ষেত্রবিবরণ ও বার্তা
ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাঅশুভ ও অন্যায়ের প্রতীক মহিষাসুরকে বধের মাধ্যমে এই দিনটি বার্তা দেয় যে, সাময়িকভাবে অন্যায় শক্তিশালী হলেও শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়েরই জয় হয়।
সামাজিক সংহতিসকল বৈষম্য, ধনী-দরিদ্রের প্রভেদ এবং ব্যক্তিগত অহংকার ভুলে মানুষে মানুষে সোহার্দ্য ও পরম সম্প্রীতি গড়ে তোলে।
মনোবল ও অনুপ্রেরণামানুষের ভেতরের কাম, ক্রোধ, লোভ ও হিংসা রূপ ‘অসুরিক প্রবৃত্তি’কে বিনাশ করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের অনুপ্রেরণা জোগায়।


‘আসছে বছর আবার হবে’—এই আশাবাদ ও আকুল প্রার্থনার মধ্য দিয়েই পরিসমাপ্তি ঘটে শারদীয় দুর্গোৎসবের। অশ্রুসজল চোখে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে বাঙালিরা আবার নতুন উদ্যমে কর্মজীবনে ফিরে যায়। বিজয়া দশমী কেবল একটি ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ নয়, এটি মানবজাতিকে হিংসা-দ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, ক্ষমা ও ঐক্যের পথে চলার এক শ্বাশত বার্তা পৌঁছে দেয়।

শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) সম্পর্কে

শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 21 October, 2026 (বুধবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) – 21 October 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox