ঐচ্ছিক ছুটি (খ্রিস্টান)

ইস্টার সানডে

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৩৮
Apr05

তারিখ ও বার

05 April, 2026

রবিবার

ইস্টার সানডে - Totthobox Holiday
ইস্টার সানডে - Totthobox Holiday

বিস্তারিত বিবরণ

ইস্টার সানডে (Easter Sunday) বা পুনরুত্থান রবিবার হলো খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পবিত্র, অন্যতম প্রাচীন এবং প্রধান ধর্মীয় উৎসব। খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শুক্রবার কালভারি পাহাড়ে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার পর তৃতীয় দিনে, অর্থাৎ রবিবার, প্রভু যিশু খ্রিষ্ট অলৌকিকভাবে পুনরুত্থান (জীবিত হয়ে ওঠা) লাভ করেন। যিশুর এই পুনরুত্থানের পবিত্র ঘটনাকে স্মরণ ও উদ্‌যাপন করতেই বিশ্বজুড়ে পরম আনন্দ ও ভক্তির সাথে ইস্টার সানডে পালিত হয়।

ধর্মীয় ও পৌরাণিক পটভূমি

ইস্টার সানডের মূল চেতনা লুকিয়ে আছে যিশু খ্রিষ্টের ত্যাগ, পুনরুত্থান এবং পাপের ওপর পুণ্যের বিজয়ের ওপর:

  1. গুড ফ্রাইডে ও ক্রুশবিদ্ধকরণ: ইস্টার সানডের ঠিক আগের শুক্রবার ‘গুড ফ্রাইডে’ হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে মানবজাতির পাপমুক্তির জন্য যিশু খ্রিষ্ট নিজেকে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আত্মোৎসর্গ করেছিলেন।
  2. মৃত্যুঞ্জয়ী পুনরুত্থান: খ্রিষ্টীয় ধর্মগ্রন্থ বাইবেল অনুযায়ী, মৃত্যুর পর যিশুকে একটি পাথরের গুহায় সমাধিস্থ করা হয়। কিন্তু ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তৃতীয় দিন অর্থাৎ রবিবার সকালে তাঁর অনুসারীরা গিয়ে দেখতে পান যে গুহার মুখের পাথরটি সরানো এবং ভেতরে যিশুর দেহ নেই। পরবর্তীতে যিশু খ্রিষ্ট তাঁর শিষ্যদের সামনে জীবিত রূপে দর্শন দেন।
  3. তাৎপর্য: যিশুর এই পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে মৃত্যু, পাপ এবং অশুভ শক্তির ওপর আলো, জীবন এবং ঈশ্বরের পরম ক্ষমতার জয় অবশ্যম্ভাবী। ইস্টার খ্রিষ্টান ধর্মে অনন্ত জীবন ও আশার প্রতীক।

ইস্টার সানডের সময়কাল ও নির্ধারণ পদ্ধতি

ইস্টার সানডের তারিখ প্রতি বছর নির্দিষ্ট থাকে না; এটি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

  1. বসন্তকালীন পূর্ণিমা: ৪২৫ খ্রিস্টাব্দের ‘নাইসিয়া কাউন্সিল’-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বসন্তকালের বিষুব (Equinox, যা ২১ মার্চ ধরা হয়)-এর পর যে প্রথম পূর্ণিমা আসে, তার পরবর্তী প্রথম রবিবার ইস্টার সানডে উদযাপিত হয়।
  2. সময়সীমা: সাধারণত পশ্চিমা খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২২ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে যেকোনো একদিন ইস্টার সানডে পড়ে।

ইস্টার উৎসবের প্রধান প্রধান চিহ্ন ও প্রতীক

ইস্টার উৎসব উদযাপনে বেশ কিছু রঙিন ও তাৎপর্যপূর্ণ চিহ্নের ব্যবহার রয়েছে:

প্রতীক / অনুষঙ্গতাৎপর্য ও ব্যবহৃত সংস্কৃতি
ইস্টার এগ (Easter Egg)ডিম হলো নতুন জীবন ও পুনর্জন্মের প্রতীক। রঙিন করে সাজানো ডিম যিশুর সমাধি থেকে নতুন জীবন নিয়ে বেরিয়ে আসার রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইস্টার বান্নি (Easter Bunny)খরগোশকে উর্বরতা ও নতুন বসন্ত বা জীবনের প্রতীক মনে করা হয়। শিশুরা বিশ্বাস করে যে ইস্টার বান্নি এসে ডিম ও উপহার লুকিয়ে রেখে যায়।
সাদা লিলি ফুল (Easter Lily)চার্চ ও ঘরবাড়িতে সাদা লিলি ফুল দিয়ে সাজানো হয়, যা যিশুর পবিত্রতা ও নিষ্পাপ রূপের প্রতিনিধিত্ব করে।
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন (Paschal Candle)অন্ধকার ভেদ করে যিশুর আলোকরূপী পুনরুত্থানের স্মারক হিসেবে গির্জায় বিশেষ মোমবাতি জ্বালানো হয়।

ইস্টার সানডের প্রধান আচার ও উদযাপন

বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মাঝে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক আচার পালিত হয়:

১. প্রাতঃকালীন প্রার্থনা (Sunrise Service)

অনেক স্থানে রবিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে খোলা মাঠে বা প্রাঙ্গণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এটি যিশুর সমাধির মুখ থেকে প্রথম আলো ফোটার স্মরণে পালিত হয়।

২. চার্চের বিশেষ মাস ও প্রার্থনা

ইস্টার সানডের সকালে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা নতুন ও সুন্দর পোশাক পরিধান করে গির্জায় (চার্চ) যান। চার্চে বিশেষ প্রার্থনা, বাইবেল পাঠ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং আনন্দসঙ্গীত (Hymn) পরিবেশন করা হয়।

৩. ডিম সাজানো ও ‘ইস্টার এগ হান্ট’ (Easter Egg Hunt)

পরিবারের ছোটদের জন্য কৃত্রিম বা সেদ্ধ ডিমের ওপর নানা রঙ ও নকশা এঁকে লুকানো হয়। শিশুরা ঝুড়ি হাতে সেই ডিম খুঁজে বের করার খেলায় মেতে ওঠে, যা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

৪. পারিবারিক ভোজ

প্রার্থনা শেষে পরিবার ও স্বজনদের সাথে নিয়ে সান্ধ্যকালীন বা দুপুরের বিশেষ আহার ও উৎসবমুখর ভোজের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশে ইস্টার সানডে

বাংলাদেশেও অন্যান্য দেশের মতো অত্যন্ত মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা ইস্টার সানডে পালন করেন। রাজধানী ঢাকার কাকরাইল ক্যাথেড্রাল, তেজগাঁও জপমালা রানীর চার্চসহ দেশের বিভিন্ন ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও দেশের মঙ্গল কামনায় দেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় প্রার্থনায় মিলিত হন এবং স্বজনদের মাঝে মিষ্টি ও পিঠা বিতরণ করেন।

সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা

ইস্টার সানডে কেবল একটি অলৌকিক ঘটনার স্মরণ নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর মানবিক শিক্ষা। এটি মানুষকে শেখায় যে, চরম অন্ধকার, হতাশা ও দুঃখের পরেও নতুন আলোর পথ খুলে যায়। ক্ষমা, পুনর্জাগরণ, আশা এবং ভালোবাসার মাধ্যমে জয়ী হওয়াই ইস্টার সানডের চিরন্তন বার্তা।

ইস্টার সানডে সম্পর্কে

ইস্টার সানডে হলো বাংলাদেশের ঐচ্ছিক ছুটি (খ্রিস্টান) ছুটি। তারিখ: 05 April, 2026 (রবিবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ইস্টার সানডে কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
ইস্টার সানডে – 05 April 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox