পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য
তারিখ ও বার
26 August, 2026
বুধবার
বিস্তারিত বিবরণ
'ঈদে মিলাদুন্নবী' মুসলিম বিশ্বের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। আরবি 'ঈদ' শব্দের অর্থ আনন্দ বা উৎসব, 'মিলাদ' অর্থ জন্ম এবং 'উন্নবী' অর্থ নবী। অর্থাৎ, ঈদে মিলাদুন্নবী বলতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মদিনের আনন্দকে বোঝায়। ইসলামি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে বিশ্বনবী (সা.) আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। আবার ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে একই সঙ্গে জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত হলেও, তাঁর পৃথিবীতে আগমনের আনন্দ এবং তাঁর আদর্শের আলোকেই দিনটি বেশি উদযাপিত হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার সুবহে সাদেকের সময় মা আমিনার কোল আলো করে পৃথিবীতে আসেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তৎকালীন আরবের অজ্ঞতা, কুসংস্কার, হানাহানি ও বর্বরতার যুগে (যাকে 'আইয়্যামে জাহিলিয়া' বা অন্ধকার যুগ বলা হয়) তিনি আবির্ভূত হন মুক্তির দূত হিসেবে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত বা আশীর্বাদ স্বরূপ প্রেরণ করেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, "আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)। তাঁর জন্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে এক নতুন আলো ও মানবিক সভ্যতার সূচনা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য
ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রধান তাৎপর্য হলো মহানবীর (সা.) প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা। এই দিনটি মুসলমানদের তাঁর জীবন, কর্ম, দর্শন এবং আদর্শ সম্পর্কে জানার এবং তা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়। এটি কেবল একটি আনন্দ উদযাপনের দিন নয়, বরং আত্মশুদ্ধি এবং রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর প্রতি নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার দিন। মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এই দিনটি সেই ভালোবাসাকে জাগ্রত করার ও তাঁর দেখানো পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশে উদযাপন
বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে থাকেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে এই দিনটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি ছুটি পালিত হয়। দিনটির সম্মানার্থে নানা ধরনের আয়োজন করা হয়:
সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল: মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানে রাসুল (সা.)-এর জীবনী বা সিরাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মিলাদ ও দোয়া: মহানবীর (সা.) প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার জন্য মিলাদ, কিয়াম ও জিকিরের আয়োজন করা হয়।
জশনে জুলুস: অনেক স্থানে আনন্দ শোভাযাত্রা বা জশনে জুলুস বের করা হয়, যেখানে রাসুল (সা.)-এর প্রশংসামূলক নাত বা গজল পরিবেশন করা হয়।
দান ও সাদকা: এই দিনে গরিব-দুঃখী ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা এবং আর্থিকভাবে সাহায্য করার প্রথা রয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ
মহানবী (সা.)-এর সমগ্র জীবন প্রতিটি মানুষের জন্য এক সর্বজনীন ও সর্বোত্তম আদর্শ (উসওয়াতুন হাসানাহ)। তিনি মানবতাকে শিখিয়েছেন সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও শান্তির বাণী। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, দাসপ্রথার বিলোপ সাধন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অতুলনীয়। মক্কা বিজয়ের পর রক্তপাতহীনভাবে নগরে প্রবেশ এবং চরম শত্রুদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা তাঁর উদারতার এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়, যার ঐতিহাসিক প্রমাণ হলো 'মদিনা সনদ'।
আজকের অশান্ত, সংঘাতময় ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কেবল একটি বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে ধারণ করে একটি সুন্দর, শান্তিময়, সহনশীল ও মানবিক সমাজ গড়ার শপথ নেওয়ার দিন। তাঁর দেখানো পথ ও সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণেই রয়েছে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সম্পর্কে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 26 August, 2026 (বুধবার)।