Public

ঈদুল আযহার ৩য় দিন

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৩৭
May30

তারিখ ও বার

30 May, 2026

শনিবার

ঈদুল আযহার - Totthobox Holiday
ঈদুল আযহার - Totthobox Holiday
ঈদুল আযহার - Totthobox Holiday

বিস্তারিত বিবরণ

পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদের আনন্দ কেবল জিলহজ মাসের ১০ তারিখের মূল ঈদ দিবসেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ইসলামি শরিয়ত ও বিধান অনুযায়ী ঈদুল আযহা এবং কোরবানির আমল মোট তিন দিনব্যাপী পালিত হয়—যা জিলহজ মাসের ১০, ১১ এবং ১২ তারিখ। তবে ১০ জিলহজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত—এই চার দিনকে যৌথভাবে ‘আইয়ামে তাশরীক’ (أيام التشريق) বলা হয়। সেই হিসেবে জিলহজ মাসের ১৩ তারিখ অর্থাৎ ঈদুল আযহার ৪র্থ দিন বা ঈদের পরদিন (যা কোরবানির ৩য় দিন হিসেবেও অভিহিত) ইসলামি ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘আইয়ামে তাশরীক’ ও ঈদুল আযহার ৩য় দিন

আরবি ‘তাশরীক’ শব্দের অর্থ রৌদে শুকাতে দেওয়া। প্রাচীনকালে এই দিনগুলোতে কোরবানির পশুর গোশত কেটে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হতো বলে একে ‘আইয়ামে তাশরীক’ বলা হয়।

১০ জিলহজ ঈদের দিন থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই চার দিন হলো পানাহার, আনন্দ এবং জিকিরের দিন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই দিনগুলো আনন্দের দিন, তাই এ সময়ে কোনো রোজা রাখা হারাম বা নিষিদ্ধ।

ঈদুল আযহার ৩য় দিনের প্রধান ধর্মীয় বিধান ও আমল

ইসলামি ফিকহ ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল আযহার ৩য় দিনের (বা কোরবানি দেওয়ার শেষ দিনের) বিশেষ কিছু গুরুত্ব ও আমল নিচে তুলে ধরা হলো:

১. কোরবানির শেষ সময়

কোরবানির সময় নির্ধারণ নিয়ে ইসলামি ফিকহের বিখ্যাত চার মাযহাবের মধ্যে অভিমত রয়েছে:

  1. হানাফি মাযহাব অনুযায়ী: ১০, ১১ এবং ১২ জিলহজ—এই তিন দিন কোরবানি করা যায়। ১২ জিলহজ (ঈদের ৩য় দিন) সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোরবানি করার বৈধ সময় থাকে।
  2. শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী: ১০ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত (মোট চার দিন) কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে।

따라서, যারা ১০ বা ১১ জিলহজ কোনো কারণবশত কোরবানি করতে পারেননি, তারা ১২ জিলহজ বা ঈদুল আযহার ৩য় দিন সূর্যাস্তের আগেই কোরবানি সম্পন্ন করেন।

২. তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা

ঈদুল আযহার ৩য় দিন ও তার পরবর্তী দিন (১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত) পর্যন্ত ‘তাকবীরে তাশরীক’ পাঠ করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীর জন্য ওয়াজিব।

তাকবীরে তাশরীক:
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু واللهু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
  1. সময়সীমা: ৯ জিলহজ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যন্ত—মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর অন্তত একবার এই তাকবীর স্বরবে (পুরুষরা) ও নীরবে (নারীরা) পাঠ করা ওয়াজিব।

৩. হাজীদের জন্য মিনার আমল ও রমি (পাথর নিক্ষেপ)

যারা পবিত্র হজ পালন করতে যান, তাদের জন্য ঈদুল আযহার ৩য় দিন (১২ জিলহজ) অত্যন্ত ব্যস্ততম এবং গুরুত্বপূর্ণ দিন:

  1. শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ (রমি জামারাত): ১২ জিলহজ তারিখে হাজীদের মিনার তিনটি স্থানে (ছোট, মাঝারি ও বড় শয়তানের প্রতিকৃতিতে) সাতটি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করতে হয়।
  2. মিনা ত্যাগ: ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বেই যদি কোনো হাজী পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করে মিনা এলাকা ত্যাগ করতে চান, তবে শরিয়ত তাকে সেই অনুমতি দেয়।

ঈদুল আযহার ৩য় দিনের রূপরেখা (এক নজরে)

অনুষঙ্গ / কাজসময়সীমা / বিধানগুরুত্ব ও তাৎপর্য
কোরবানির সময়১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত (হানাফি মাযহাব)জিলহজের ১২ তারিখ সূর্যাস্তের সাথে সাথে কোরবানির সময় শেষ হয়ে যায়।
তাকবীরে তাশরীক৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসরপ্রতিদিনের ফরজ নামাজের পর পাঠ করা ওয়াজিব।
রোজা রাখা১০ থেকে ১৩ জিলহজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধআল্লাহর দেওয়া নিয়ামত (গোশত ও পানাহার) উপভোগের সময়।
হজের বিধান (রমি)১২ জিলহজ মিনার ৩ শয়তানকে পাথর মারাহজের একটি অন্যতম প্রধান ওয়াজিব আমল।

সামাজিক ও পারিবারিক তাৎপর্য

ঈদ কেবল ধর্মীয় ইবাদত নয়, এর একটি বড় সামাজিক দিকও রয়েছে। ঈদুল আযহার ১ম ও ২য় দিন সাধারণত কোরবানি, পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং গোশত প্রস্তুত ও বিতরণের কাজে কাটলেও ৩য় দিনে মানুষ কিছুটা অবসর পান:

  1. স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে যাতায়াত: ৩য় দিনে মানুষ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে বেড়াতে যান এবং কোরবানির গোশতের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন।
  2. দরিদ্রদের মাঝে গোশত পৌঁছানো: যাদের বাড়ি বা কোরবানি একটু বিলম্বে শেষ হয়, তারা এই দিনে দরিদ্রদের মাঝে সংরক্ষিত গোশত বিতরণের কাজ সম্পন্ন করেন।
  3. বিনোদন ও আনন্দ: কোরবানির প্রধান ব্যস্ততা শেষ হওয়ার পর এই দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও পারস্পরিক পারিবারিক মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

ঈদুল আযহার ৩য় দিন আত্মত্যাগ, শোকরিয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অপূর্ব মিশ্রণ। এটি একদিকে যেমন কোরবানির শেষ সুযোগ এনে দেয়, অন্যদিকে আল্লাহ তাআলার অশেষ নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাকবীরে তাশরীক উচ্চারণের মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি লাভের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

ঈদুল আযহার ৩য় দিন সম্পর্কে

ঈদুল আযহার ৩য় দিন হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 30 May, 2026 (শনিবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ঈদুল আযহার ৩য় দিন কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
ঈদুল আযহার ৩য় দিন – 30 May 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox