ঈদুল আযহা (পরের দিন)
ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য
তারিখ ও বার
29 May, 2026
শুক্রবার



বিস্তারিত বিবরণ
পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ কেবল ১০ জিলহজ অর্থাৎ মূল ঈদের দিনেই শেষ হয়ে যায় না। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদের পরদিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১১ তারিখ ঈদুল আযহার দ্বিতীয় দিন হিসেবে অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। হাজীদের হজ পালন এবং সাধারণ মুমিনদের কোরবানি—উভয় ক্ষেত্রেই এই দিনটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের পরিভাষায় ১০ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত চার দিনকে ‘আইয়ামে তাশরীক’ (أيام التشريق) বলা হয়। সেই হিসেবে ঈদুল আযহার পরদিন হলো আইয়ামে তাশরীক-এর দ্বিতীয় দিন।
‘ইয়াওমুল কার’ (يوم القر): ঈদের পরদিনের বিশেষ মর্যাদা
হাদিস শরিফে ঈদুল আযহার পরের দিনটিকে ‘ইয়াওমুল কার’ (يوم القر) নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘কার’ শব্দের অর্থ অবস্থান করা বা স্থির হওয়া।
- নামকরণের কারণ: ১০ জিলহজ হজের প্রধান প্রধান কাজ (কোরবানি, মাথার চুল ছাঁটা, তওয়াফ ইত্যাদি) সম্পন্ন করার পর ১১ জিলহজ হাজিগণ মিনায় অবস্থান করেন এবং বিশ্রাম নেন। এই দিন মিনায় স্থির হয়ে অবস্থান করা হয় বলেই একে ‘ইয়াওমুল কার’ বলা হয়।
- মর্যাদা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর নিকট দিনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো কোরবানির দিন (১০ জিলহজ), অতঃপর তার পরবর্তী দিন (১১ জিলহজ)।” (আবু দাউদ)।
ধর্মীয় গুরুত্ব ও প্রধান প্রধান আমল
ঈদুল আযহার পরের দিন (১১ জিলহজ) ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট কিছু বিধান ও আমল পালিত হয়:
১. দ্বিতীয় দিনের কোরবানি
যাঁরা কোনো কারণবশত ১০ জিলহজ অর্থাৎ মূল ঈদের দিন কোরবানি করতে পারেননি বা সম্পন্ন করতে চাননি, তাঁরা এই ১১ জিলহজ অর্থাৎ ঈদের পরের দিন অত্যন্ত মর্যাদার সাথে কোরবানি আদায় করেন। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, ঈদের পরদিন কোরবানি করা সম্পূর্ণ বৈধ ও সওয়াবের কাজ।
২. তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা
ঈদের পরদিন প্রতিটি ফরজ নামাজের পর ‘তাকবীরে তাশরীক’ পাঠ করা আবশ্যক (ওয়াজিব)।
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু واللهু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
- ৯ জিলহজ ফজর থেকে শুরু হওয়া এই তাকবীর ১১ জিলহজসহ ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
৩. রোজা রাখা নিষিদ্ধ ও পানাহারের দিন
আইয়ামে তাশরীক-এর অংশ হওয়ায় ঈদুল আযহার পরের দিনও রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আইয়ামে তাশরীক হচ্ছে পানাহার এবং আল্লাহর জিকির করার দিন।” (সহিহ মুসলিম)। আল্লাহ তাআলার নিয়ামত (কোরবানির গোশত ও ভালো খাবার) গ্রহণ করা এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করাই এই দিনের মূল কাজ।
৪. হাজীদের জন্য মিনার আমল (রমি বা পাথর নিক্ষেপ)
হজরত যারা হজ পালন করছেন, তাঁদের জন্য ১১ জিলহজ তারিখে মিনায় অবস্থিত তিনটি শয়তানের প্রতিকৃতিতে (ছোট, মাঝারি ও বড় জামরাহ) দুপুর জোহরের পর সাতটি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।
সামাজিক ও পারিবারিক তাৎপর্য
কোরবানির মূল ব্যস্ততা ১০ জিলহজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ১১ জিলহজ অর্থাৎ ঈদের পরের দিনটি সামাজিক ও পারিবারিক মেলবন্ধনের এক চমৎকার সুযোগ এনে দেয়:
- স্বজন ও প্রতিবেশীদের আতিথেয়তা: এই দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াত বা তাঁদের নিজের বাড়িতে দাওয়াত দেওয়ার ধুম পড়ে। কোরবানির গোশত দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের আতিথেয়তা গ্রহণ করা হয়।
- দরিদ্রদের মাঝে গোশত বিতরণ: ১০ জিলহজ কোরবানি দেওয়ার পর যাঁরা পুরোপুরি গোশত বণ্টন শেষ করতে পারেন না, তাঁরা পরদিন সকালে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে গোশত পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সুসম্পন্ন করেন।
- পারিবারিক বিনোদন: ঈদের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা ও পশুর হাটের ক্লান্তি দূর করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করার জন্য ঈদের পরদিনটি অত্যন্ত উপযোগী।
সংক্ষেপে এক নজরে
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বিধান |
| আরবি তারিখ | ১১ জিলহজ (আইয়ামে তাশরীক-এর ২য় দিন) |
| বিশেষ নাম | ‘ইয়াওমুল কার’ (يوم القر) |
| কোরবানির সুযোগ | পূর্ণ সুযোগ রয়েছে (সূর্যাস্ত পর্যন্ত বৈধ) |
| বিশেষ বিধান | ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ ও রোজা রাখা নিষিদ্ধ |
ঈদুল আযহার পরদিনটি যেমন ইবাদত ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন, তেমনি পারিবারিক আনন্দ উপভোগ ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির এক অনবদ্য মুহূর্ত। মহান আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ত্যাগের মহিমাকে হৃদয়ে ধারণ করাই এই দিনের আসল বার্তা।
ঈদুল আযহা (পরের দিন) সম্পর্কে
ঈদুল আযহা (পরের দিন) হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 29 May, 2026 (শুক্রবার)।