Religious

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

২৯৫
Sep23

তারিখ ও বার

23 September, 2026

বুধবার

বিস্তারিত বিবরণ

মুসলিম বিশ্বে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে 'ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম' অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ফারসি শব্দ 'ইয়াজদাহম' অর্থ এগারো এবং আরবি 'ফাতেহা' অর্থ দোয়া করা বা ঈসালে সওয়াব। ইসলামি বর্ষপঞ্জির রবিউস সানি বা রবিউল আখের মাসের ১১ তারিখে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, আধ্যাত্মিক সাধক ও কাদেরিয়া তরিকার প্রবর্তক হজরত আবদুল কাদির জিলানি (র.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে এই স্মরণ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গাউসুল আজম

হজরত আবদুল কাদির জিলানি (র.) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত ও সুফি সাধক। তিনি ১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে (৪৭০ হিজরি) ইরানের গিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ইরাকের বাগদাদে জ্ঞানার্জন ও ধর্মপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। ইসলামি শরিয়ত ও তরিকতের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে 'গাউসুল আজম' বা 'বড় পীর' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দের (৫৬১ হিজরি) ১১ রবিউস সানি তিনি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তাঁর এই ইন্তেকালের দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালন করা হয়।

ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কেবল একটি মৃত্যুবার্ষিকী পালন নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি এবং মহান সাধকের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়ার দিন। হজরত আবদুল কাদির জিলানি (র.) তাঁর সারাজীবন কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। তাঁর আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য, সত্যনিষ্ঠা ও দ্বীনের প্রতি একাগ্রতা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য আদর্শ। এই দিনটি মুসলমানদের আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়।

উদযাপন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা, বিশেষত কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তির সাথে পালন করেন। এই দিনে সাধারণত নিম্নলিখিত ধর্মীয় কার্যক্রমগুলো অনুষ্ঠিত হয়:

  1. কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া: মসজিদ, খানকাহ, মাদ্রাসা ও বাসাবাড়িতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং বড় পীর (র.)-এর রুহের মাগফিরাত ও সওয়াব রেসানির উদ্দেশ্যে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
  2. আলোচনা সভা ও ওয়াজ মাহফিল: হজরত আবদুল কাদির জিলানি (র.)-এর জীবনী, কারামত এবং ইসলাম প্রচারে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
  3. দান-সাদকা ও তাবাররুক বিতরণ: এতিম, গরিব ও অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বা তাবাররুক বিতরণ করা হয়। অনেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী দান-খয়রাত করে থাকেন।
  4. নফল ইবাদত: ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনে নফল নামাজ, জিকির ও তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

হজরত আবদুল কাদির জিলানি (র.)-এর শিক্ষা

বড় পীর (র.)-এর জীবনের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো চরম প্রতিকূলতার মাঝেও সত্যের ওপর অবিচল থাকা। বাল্যকালে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বাগদাদ যাওয়ার পথে ডাকাতদের কবলে পড়ার পরও মায়ের উপদেশ মেনে সত্য কথা বলার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা আজও সততা ও নির্ভীকতার এক উজ্জ্বল উপমা। তিনি অহংকার, লোভ ও জাগতিক মোহ ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর রচিত 'গুনিয়াতুত তালেবিন' এবং 'ফুতুহুল গায়েব' গ্রন্থগুলো আজও ইসলামি জ্ঞানপিপাসুদের আধ্যাত্মিক পথনির্দেশনা দেয়।


ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আত্মপর্যালোচনার দিন। হজরত আবদুল কাদির জিলানি (র.)-এর মতো মহান অলি-আল্লাহদের জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই সমাজ থেকে অন্যায়, অসত্য ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করা সম্ভব। তাঁর দেখানো পথ ধরে কুরআন ও সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের মাধ্যমেই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা সহজতর হয়।

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম সম্পর্কে

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো বাংলাদেশের Religious ছুটি। তারিখ: 23 September, 2026 (বুধবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম – 23 September 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox