Public

জন্মাষ্টমী

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৪২
Sep04

তারিখ ও বার

04 September, 2026

শুক্রবার

বিস্তারিত বিবরণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও আনন্দমুখর ধর্মীয় উৎসব হলো শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণের পৃথিবীতে আবির্ভাবের পুণ্য তিথিকে স্মরণ করে প্রতি বছর এই উৎসব অত্যন্ত ভক্তি ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হয়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এবং রোহিণী নক্ষত্রের যোগে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়, যা সাধারণত ইংরেজি বর্ষপঞ্জির আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে পড়ে।


পৌরাণিক ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের রাজত্বকালে অন্যায় ও অবিচারে পৃথিবী জর্জরিত হয়ে উঠেছিল। কংসের কারাগারে বন্দি তার বোন দেবকী ও ভগ্নিপতি বসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে এক ঘোর অমানিশার রাতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। দৈববাণী ছিল যে, দেবকীর অষ্টম সন্তানের হাতেই কংসের মৃত্যু হবে। তাই কংসের হাত থেকে নবজাতককে রক্ষার জন্য বসুদেব সেই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাতেই উত্তাল যমুনা নদী পার হয়ে গোকুলে নন্দরাজ ও যশোদার কাছে কৃষ্ণকে রেখে আসেন। এই অলৌকিক জন্ম ও বেড়ে ওঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীতে ধর্মের গ্লানি দূর করে সত্য, ন্যায় ও শান্তির প্রতিষ্ঠা করা।


আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

জন্মাষ্টমীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো অধর্ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ম ও ন্যায়ের চূড়ান্ত বিজয়। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তাঁর অবতার হিসেবে পৃথিবীতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥" অর্থাৎ, যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের বৃদ্ধি ঘটে, তখনই সাধুদের রক্ষা, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।

শ্রীকৃষ্ণের সমগ্র জীবন মানবজাতির জন্য এক বিশাল শিক্ষালয়। তিনি একাধারে একজন আদর্শ সখা, দার্শনিক, যোদ্ধা এবং রাজনীতিক। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনকে দেওয়া তাঁর উপদেশাবলি ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ হিসেবে পরিচিত, যা নিষ্কাম কর্ম, ভক্তি ও আত্মদর্শনের এক চিরন্তন পথনির্দেশিকা।


পূজা ও উদযাপনের প্রথা

বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নানা আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে থাকেন:

উপবাস ও আরাধনা: ভক্তরা এদিন দিনব্যাপী উপবাস বা ব্রত পালন করেন। মধ্যরাতে, অর্থাৎ কৃষ্ণের জন্মের পবিত্র লগ্নে বিশেষ পূজা, আরতি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে তাঁর আরাধনা করা হয়। এরপর প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উপবাস ভঙ্গ করা হয়।

মন্দির সজ্জা ও কীর্তন: জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মথুরা, বৃন্দাবন, দ্বারকা থেকে শুরু করে বিশ্বের সব কৃষ্ণ মন্দির বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। দিনরাতব্যাপী নামসংকীর্তন, ভজন, গীতা ও ভাগবত পাঠের আয়োজন চলে।

দহি হান্ডি: শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকালের মাখন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে 'দহি হান্ডি' বা 'মাখন চুরির' উৎসব খেলা হয়। উঁচু স্থানে বাঁধা মাখনের হাঁড়ি মানুষের পিরামিড তৈরি করে ভাঙার এই খেলাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

রাসলীলা ও নাট্যাভিনয়: ভগবান কৃষ্ণের জীবনের নানা অধ্যায়—যেমন তাঁর শৈশবের লীলা, রাধা-কৃষ্ণের প্রেম এবং কংস বধের কাহিনি নিয়ে রাসলীলা বা নাটকের আয়োজন করা হয়।


বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী উদযাপন

বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালিত হয়। দিনটি উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি থাকে। রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরসহ সারা দেশের মঠ-মন্দিরে বিশেষ পূজার্চনা, আলোচনা সভা ও ধর্মীয় গানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বা মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়, যেখানে সব বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জন্মাষ্টমী সম্পর্কে

জন্মাষ্টমী হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 04 September, 2026 (শুক্রবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জন্মাষ্টমী কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
জন্মাষ্টমী – 04 September 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox