Public

লক্ষ্মী পূজা

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৬৭
Oct26

তারিখ ও বার

26 October, 2026

সোমবার

বিস্তারিত বিবরণ

লক্ষ্মী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এবং সুপরিচিত ধর্মীয় উৎসব। ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি, সৌন্দর্য ও উর্বরতার দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভের আশায় এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়ন করেন এবং ভক্তদের অভাব-অনটন থেকে রক্ষা করেন। বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে এই পূজা অত্যন্ত ভক্তি ও আনন্দের সাথে উদযাপিত হয়।

ইতিহাস ও পৌরাণিক পটভূমি

দেবী লক্ষ্মীর উৎপত্তি ও মাহাত্ম্য নিয়ে হিন্দু ধর্মগ্রন্থে একাধিক পৌরাণিক উপাখ্যান রয়েছে:

  1. সমুদ্রমন্থন ও আবির্ভাব: পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দেব ও অসুরদের দ্বারা ক্ষীরসমুদ্র মন্থনের সময় এক হাতে পদ্ম এবং অন্য হাতে সুধার ভাণ্ডার নিয়ে দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাব ঘটেছিল। পরবর্তীতে তিনি জগৎপালক শ্রীবিষ্ণুকে পতিরূপে বরণ করে নেন।
  2. বিষ্ণুপ্রিয়া ও লক্ষ্মী-নারায়ণ: দেবী লক্ষ্মী হলেন পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণুর সহধর্মিণী। হিন্দু দর্শনে বিষ্ণু হলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পালনকর্তা এবং লক্ষ্মী হলেন সেই পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও শক্তির প্রতীক। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে লক্ষ্মী-নারায়ণ একত্রে পূজিত হন।

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ও ‘কো জাগর্তি’

বাঙালি সমাজে শারদীয় দুর্গোৎসবের পরপরই আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে যে মূল লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা বলা হয়।

  1. নামকরণের কারণ: ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে ‘কো জাগর্তি’ (অর্থ: “কে জেগে আছো?”) বাক্যাংশ থেকে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের এই নির্মল পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যধামে নেমে আসেন এবং গৃহস্থদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দেখেন কে জেগে আছে। যে ব্যক্তি রাতে জেগে থেকে দেবীর ধ্যান ও আরাধনা করে, দেবী তার ওপর তুষ্ট হয়ে ধন-ধান্য ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ বর্ষণ করেন।
  2. কৃষি সংস্কৃতির যোগসূত্র: কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার সাথে বাংলার প্রাচীন কৃষি সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শরৎকালে ধান ক্ষেত যখন সবুজ থেকে সোনালী রূপ ধারণ করতে শুরু করে, তখন নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে কৃষিজীবী সমাজ এই ব্রত পালন করে থাকে।

পূজার বিভিন্ন রূপ ও সময়কাল

যদিও কোজাগরী পূর্ণিমাতে প্রধান লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হয়, তবে বছরজুড়ে বিভিন্ন সময়ে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়ে থাকে:

  1. কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা: আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত প্রধান পূজা।
  2. দীপান্বিতা লক্ষ্মী পূজা: কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে শ্যামা পূজা বা দেওয়ালির রাতে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে এবং অনেক বাঙালি গৃহে দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা হয়।
  3. গুরুবার বা বৃহস্পতিবারের ব্রত: বাঙালি হিন্দু নারীরা প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী দেবীর পাঁচালী পাঠ করেন এবং সাপ্তাহিক ব্রত পালন করেন।
  4. নবান্ন ও পৌষ সংক্রান্তির পূজা: নতুন ধান কাটার পর নবান্ন উৎসবে এবং পৌষ সংক্রান্তিতে গৃহস্থের সমৃদ্ধি কামনায় লক্ষ্মী পূজা করা হয়।

আচার-অনুষ্ঠান ও পূজার অনুষঙ্গ

লক্ষ্মী পূজায় অন্যান্য দেব-দেবীর মতো আড়ম্বর বা জটিল আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে ভক্তি ও পরিচ্ছন্নতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

অনুষঙ্গ ও আচারবিবরণ ও সামাজিক তাৎপর্য
আল্পনা (Alpana)চালের গুঁড়ো দিয়ে ঘরের মেঝে এবং উঠানে নান্দনিক আল্পনা আঁকা হয়। বিশেষ করে দেবী লক্ষ্মীর পদচিহ্ন (পায়ের ছাপ) এঁকে দেবীকে ঘরে আবাহন জানানো হয়।
ধানের শীষ ও ঝাঁপিনতুন ধানের শীষ, ধান ভর্তি কাঠের ঝাঁপি (লক্ষ্মীর ঝাঁপি) ও সিদুর কৌটো দিয়ে দেবীর প্রতীকী রূপ সাজানো হয়।
লক্ষ্মীর পাঁচালীপূজার শেষে পরিবারের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে পরম ভক্তিতে ‘লক্ষ্মীর পাঁচালী’ পাঠ শোনেন, যাতে পারিবারিক নীতি ও সদাচারের শিক্ষা বর্ণিত থাকে।
গৃহ সাজসজ্জাঘরবাড়ি ধুয়ে-মুছে অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়, কারণ বিশ্বাস করা হয় যে পরিষ্কার ও শান্ত পরিবেশেই দেবীর স্থায়ী বাস।
পায়েস ও নাড়ু ভোগনারকেলের নাড়ু, তিলের খাজা, মুড়ি-মুড়কি, ফলমূল এবং চাল-দুধের তৈরি পায়েস দেবীকে ভোগ হিসেবে অর্পণ করা হয়।

সামাজিক ও বৈ পারিবারিক তাৎপর্য

দেবী লক্ষ্মী কেবল পার্থিব ধনের দেবী নন; হিন্দু দর্শন অনুযায়ী তিনি ‘অষ্টলক্ষ্মী’ রূপে আটটি ভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রতীক—যেমন আদি লক্ষ্মী, ধান্য লক্ষ্মী, ধৈর্য লক্ষ্মী, গজ লক্ষ্মী, সন্তান লক্ষ্মী, বিজয় লক্ষ্মী, বিদ্যা লক্ষ্মী এবং ধন লক্ষ্মী।

তাই লক্ষ্মী পূজার মূল শিক্ষা হলো কেবল অর্থসম্পদ অর্জনই জীবনের শেষ কথা নয়; বরং সৎ উপায়ে উপার্জন, বিনয়, ধৈর্য, শিক্ষা এবং গৃহে সার্বিক শান্তি বজায় রাখাই প্রকৃত সমৃদ্ধি। নারীদের ঘরের ‘লক্ষ্মী’ হিসেবে সম্মান করার সামাজিক ঐতিহ্যও এই পূজার ভাবধারার সাথে জড়িত।


লক্ষ্মী পূজা বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি, নান্দনিকতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। অমাবস্যা বা পূর্ণিমার আলো-ছায়ার রাতে প্রদীপের আলো, ধূপের সুবাস, আল্পনার সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশে দেবীর আবাহন প্রতিটি বাঙালি পরিবারে এক পরম পবিত্র ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।

লক্ষ্মী পূজা সম্পর্কে

লক্ষ্মী পূজা হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 26 October, 2026 (সোমবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

লক্ষ্মী পূজা কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
লক্ষ্মী পূজা – 26 October 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox