Religious

শবে মেরাজ

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

২০০
Jan16

তারিখ ও বার

16 January, 2026

শুক্রবার

শবে মেরাজ - Totthobox Holiday
শবে মেরাজ - Totthobox Holiday

বিস্তারিত বিবরণ

ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ, রহস্যময় ও অলৌকিক ঘটনা হলো ‘শবে মেরাজ’। 'শব' একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ রাত; অন্যদিকে 'মেরাজ' আরবি শব্দ, যার অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা সিঁড়ি। ইসলামি পরিভাষায়, হিজরতের আগে নবুওয়াতের একাদশ বা দ্বাদশ বর্ষে রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা হয়ে সপ্তাকাশ পেরিয়ে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর মহিমান্বিত যাত্রাকেই শবে মেরাজ বলা হয়। এই রাতটি বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে গভীর ভক্তি, ইবাদত ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির একটি বিশেষ সময়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ

ইসলামি ইতিহাস ও হাদিস গ্রন্থগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী, শবে মেরাজের ঘটনাটিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: 'ইসরা' এবং 'মেরাজ'।

১. আল-ইসরা বা নৈশভ্রমণ

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইসরায় এই যাত্রার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার রাতে মহানবী (সা.) উম্মে হানির ঘরে অথবা কাবা চত্বরে (হাতিম) ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন প্রধান ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) সেখানে উপস্থিত হন এবং নবীজির বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর হৃদয়কে জমজম কূপের পানি দিয়ে ধৌত করে আত্মিক পবিত্রতা ও শক্তি বৃদ্ধি করেন। এরপর ‘বোরাক’ নামক এক স্বর্গীয় ও দ্রুতগামী বাহনে চড়ে নবীজি (সা.) মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসা (বায়তুল মুকাদ্দাস)-তে পৌঁছান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসুলের উপস্থিতিতে দুই রাকাত নামাজের ইমামতি করেন। এই অংশটিকেই ‘ইসরা’ বলা হয়।

২. আল-মেরাজ বা ঊর্ধ্বগমন

মসজিদুল আকসা থেকে শুরু হয় নবীজির (সা.) ঊর্ধ্বমুখী যাত্রা, যা ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত। জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে তিনি প্রথম আকাশ থেকে পর্যায়ক্রমে সপ্তম আকাশ পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। এই যাত্রাপথে বিভিন্ন আসমানে তাঁর সাথে হজরত আদম (আ.), হজরত ঈসা (আ.) ও ইয়াহিয়া (আ.), হজরত ইউসুফ (আ.), হজরত ইদ্রিস (আ.), হজরত হারুন (আ.), হজরত মুসা (আ.) এবং হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় হয়।

৩. সিদরাতুল মুনতাহা ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ

সপ্তম আকাশ পেরিয়ে মহানবী (সা.) ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ বা কুলগাছ রূপী এক চূড়ান্ত সীমানায় পৌঁছান। এটি সৃষ্টির এমন এক শেষ সীমানা, যা অতিক্রম করার অনুমতি জিব্রাইল (আ.)-এরও ছিল না। এখান থেকে ‘রফরফ’ নামক অপর এক বাহনে করে মহানবী (সা.) সরাসরি মহান স্রষ্টা আল্লাহর সান্নিধ্যে উপনীত হন এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে এক অভাবনীয় ও সরাসরি কথোপকথন অনুষ্ঠিত হয়।

মেরাজের শ্রেষ্ঠ উপহার: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

শবে মেরাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই রাতেই মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (সালাত) ফরজ বা বাধ্যতামূলক করা হয়। শুরুতে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য দৈনিক ৫০ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে হজরত মুসা (আ.)-এর পরামর্শে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে কয়েক দফায় তা কমানোর আবেদন করেন। অবশেষে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারণ করা হয়, তবে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দেন যে, এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিষ্ঠার সাথে আদায় করলে ৫০ ওয়াক্তের সমান সওয়াব বা পুণ্য লাভ করা যাবে।

ইসলাম ধর্মে মেরাজের তাৎপর্য ও প্রভাব

  1. ঈমানের পরীক্ষা: মেরাজের ঘটনাটি তৎকালীন মক্কার সমাজে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এটি ছিল মুসলমানদের জন্য ঈমানের এক কঠিন পরীক্ষা। অনেকেই এই অলৌকিক যাত্রার কথা বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু নবীজির ঘনিষ্ঠ সহচর হজরত আবু বকর (রা.) বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে তা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বাস করেন। এই কারণে তাঁকে ‘সিদ্দিক’ (মহাসত্যবাদী) উপাধি দেওয়া হয়।
  2. দুঃখ লাঘব ও সান্ত্বনা: মেরাজের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল, যখন মহানবী (সা.) তাঁর প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) এবং আশ্রয়দাতা চাচা আবু তালিবকে হারিয়ে চরম শোকের (আমুল হুজন বা শোকের বছর) মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এছাড়া তায়েফবাসীদের দ্বারাও তিনি চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে মূলত সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
  3. বেহেশত ও দোজখ দর্শন: এই যাত্রায় মহানবী (সা.)-কে জান্নাত (স্বর্গ) এবং জাহান্নাম (নরক) সরাসরি দেখানো হয়, যা পরবর্তীতে তাঁর অনুসারীদের সৎপথে পরিচালিত করতে এবং পরকালের বিষয়ে সতর্ক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমান রীতিনীতি ও ইবাদত

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে শবে মেরাজ পালন করা হয়। এই রাতে মুসলমানরা জাগতিক কাজ থেকে বিরত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিভিন্ন ইবাদতে মশগুল থাকেন:

  1. নফল নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত: রাত জেগে নফল নামাজ আদায় করা, পবিত্র কুরআন পাঠ করা এবং জিকির-আজকারের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা হয়।
  2. ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল: মসজিদগুলোতে মেরাজের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
  3. রোজা পালন: অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান মেরাজের পরদিন (২৭ রজব) নফল রোজা রাখেন।
  4. ক্ষমা প্রার্থনা: বিগত জীবনের পাপ মোচনের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শবে মেরাজ কেবল একটি ঐতিহাসিক বা অলৌকিক ঘটনাই নয়, এটি স্রষ্টা ও তাঁর প্রেরিত রাসুলের মধ্যকার গভীর ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। বিজ্ঞান ও যুক্তির সাধারণ কাঠামোর বাইরে গিয়ে ঈমান বা অটল বিশ্বাসের যে শিক্ষা এই রাত প্রদান করে, তা ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তিকে আরও মজবুত করে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো অমূল্য উপহার এবং জাগতিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনের যে বার্তা মেরাজ থেকে পাওয়া যায়, তা যুগে যুগে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ও স্রষ্টার নৈকট্য লাভের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।

শবে মেরাজ সম্পর্কে

শবে মেরাজ হলো বাংলাদেশের Religious ছুটি। তারিখ: 16 January, 2026 (শুক্রবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শবে মেরাজ কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
শবে মেরাজ – 16 January 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox