Public

শবে কদর (সম্ভাব্য তারিখ)

ছুটির ক্যালেন্ডার · বিস্তারিত তথ্য

১৩৯
Mar15

তারিখ ও বার

15 March, 2026

রবিবার

শবে কদর (সম্ভাব্য তারিখ) - Totthobox Holiday

বিস্তারিত বিবরণ

শবে কদর (লাইলাতুল কদর): মাহাত্ম্য, তাৎপর্য ও আমল

ইসলামি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ভাবধারায় পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও মাহাত্ম্যপূর্ণ রাত হলো 'শবে কদর' বা 'লাইলাতুল কদর'। ফারসি শব্দ 'শব' অর্থ রাত এবং আরবি শব্দ 'কদর' অর্থ মহিমান্বিত, সম্মান বা ভাগ্য। ফলে 'শবে কদর' বা 'লাইলাতুল কদর'-এর শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় মহিমান্বিত রাত বা ভাগ্য নির্ধারণী রাত।

মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মানবজাতির হিদায়াতের চিরন্তন সনদ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। আল-কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, এই একটি মাত্র রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।


১. শবে কদরের ইতিহাস ও আল-কুরআন অবতীর্ণ

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের প্রথম বাণী অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের সুমহান ইতিহাসের সূচনা হয়। মহান আল্লাহ তাআলা সুরা আল-কদরে স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন:

"নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) নাজিল করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জানো? কদরের রাত হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।"
— (সুরা আল-কদর, আয়াত: ১-৩)

হাদিস ও তাফসিরের বিবরণ অনুযায়ী, লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে একযোগে সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয় এই রাতে। এরপর সেখান থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর মানবজাতির প্রয়োজনানুসারে খণ্ড খণ্ড আকারে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়।

২. শবে কদর কখন পালিত হয়?

শবে কদর নির্দিষ্ট করে কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, তা গোপন রাখা হয়েছে যাতে বিশ্বাসীরা কেবল একটি রাতে সীমাবদ্ধ না থেকে শেষ দশকের পুরো সময়জুড়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকেন।

তবে হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত অনুসন্ধান করতে।

  1. বিজোড় রাতসমূহ: ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাত (যা সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়)।
  2. বহুল প্রচলিত মতামত: বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ঐতিহ্যগতভাবে ২৭ রমজানের রাতকে (২৬ রমজান দিন শেষে যে রাত আসে) অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে শবে কদর হিসেবে পালন করার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। তবে ইসলামি ফকিহ ও আলেমাদের মতে, শেষ দশকের প্রতিটি বিজোড় রাতেই ইবাদত করা উত্তম।

৩. শবে কদরের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য

লাইলাতুল কদরের বিশেষ কিছু ফজিলত ও তাৎপর্য হাদিস ও কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে:

১. হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ: এই রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বহন করে।

২. ফেরেশতাদের অবতরণ: এই রাতে জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্বে অগণিত ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং আল্লাহর ইবাদতে রত বান্দাদের জন্য শান্তি ও রহমতের দোয়া করেন।

৩. গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়াবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" (সহিহ বুখারি)

৪. শান্তিময় রাত: ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত এই রাতে সার্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করে।

৪. শবে কদরের বিশেষ আমল ও দোয়া

লাইলাতুল কদরে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে রাত জাগরণ করা উত্তম।

কদরের রাতের বিশেষ দোয়া

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি কোন রাতটি কদরের রাত, তবে আমি কী দোয়া পড়ব?"

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে এই দোয়াটি পড়ার পরামর্শ দেন:

আরবি:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।
— (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমল

  1. নফল নামাজ: সাধারণ নফল নামাজ বা সালাতুত তাসবিহ আদায় করা।
  2. কুরআন তিলাওয়াত: অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ কুরআন তিলাওয়াত করা।
  3. তওবা ও এস্তেগফার: জীবনের অতীত ভুলের জন্য অনুশোচনা করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  4. দান-সদকা: কদরের রাতে সাধ্যানুযায়ী সদকা ও দান-খয়রাত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

৫. এক নজরে শবে কদর

বিষয়তথ্য ও বিবরণ
আরবি নামলাইলাতুল কদর (ليلة القدر)
অর্থমহিমান্বিত রাত / মর্যাদা ও ভাগ্যের রাত
অবস্থানপবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতসমূহ
বিশেষ মর্যাদা১,০০০ মাস (৮৩ বছর ৪ মাস)-এর চেয়েও উত্তম
প্রধান বৈশিষ্ট্যমহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণের রাত
সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকদরের দোয়া পাঠ, নফল নামাজ, তওবা ও কুরআন তিলাওয়াত


শবে কদর বা লাইলাতুল কদর মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য নিয়ামত ও উপহার। জীবনের গুনাহগুলো ধুয়ে-মুছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ কামনার জন্য এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। শেষ দশকের রাতগুলোতে আলস্য পরিহার করে ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হওয়াই একজন খাঁটি মুমিনের কাম্য।

শবে কদর (সম্ভাব্য তারিখ) সম্পর্কে

শবে কদর (সম্ভাব্য তারিখ) হলো বাংলাদেশের Public ছুটি। তারিখ: 15 March, 2026 (রবিবার)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শবে কদর (সম্ভাব্য তারিখ) কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই ছুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লেখা আছে।
অন্যান্য ছুটি কোথায় পাব?
ছুটির ক্যালেন্ডার তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ছুটি দেখতে পারবেন।
শবে কদর (সম্ভাব্য তারিখ) – 15 March 2026 | ছুটির ক্যালেন্ডার | Totthobox