বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন

শেরেবাংলা নগর • ঢাকা জেলা • ঢাকা

২৩
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন

বিস্তারিত বিবরণ

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন: শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ জাতীয় প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (সংক্ষেপে বাপশক; ইংরেজিতে Bangladesh Atomic Energy Commission - BAEC) বাংলাদেশের পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের একমাত্র শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ের 'পরমাণু ভবন'-এ এর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর অবস্থিত।

শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে আণবিক শক্তির গবেষণা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, কৃষি খাত এবং শিল্প ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় এই প্রতিষ্ঠানটি অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সাথে নিবিড় সহযোগিতার মাধ্যমে কমিশনটি বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড বজায় রেখে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বিজ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দূরদর্শী চিন্তার ফলশ্রুতিতে এই কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়:


আইএইএ (IAEA) সদস্যপদ লাভ

১৯৭২

স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্যপদ অর্জন করে, যা বৈশ্বিক পরমাণু নেটওয়ার্কে দেশের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।


বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গঠন

২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩

রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন' (পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে নাম পরিবর্তিত হয়ে 'বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন' হয়) গঠিত হয়।


অবকাঠামোগত স্থানান্তর

১৯৭৩ - ১৯৮৮

প্রাথমিকভাবে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ প্রাঙ্গণে কার্যক্রম পরিচালনা করার পর এটি আগারগাঁওয়ের বর্তমান স্থায়ী আধুনিক ভবনে স্থানান্তরিত হয়।


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গবেষণা প্রসার

বর্তমান (২০২৬)

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরামর্শক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দেশবাসীকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুগের সাথে যুক্ত করেছে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও পরিচালনা কাঠামো

কমিশনটি সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।

  1. চেয়ারম্যান (Chairman): সরকারের জ্যেষ্ঠ ও প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী বা গবেষকদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়ে সমগ্র প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
  2. বিভাগসমূহ: ভৌত বিজ্ঞান (Physical Sciences), জৈব বিজ্ঞান (Biosciences) এবং প্রকৌশল (Engineering)—এই প্রধান তিনটি শাখার অধীনে এর অধীনে থাকা সকল গবেষণাগার ও ইনস্টিটিউট পরিচালিত হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত কেন্দ্রসমূহ

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে দেশব্যাপী অসংখ্য বিশেষায়িত গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ল্যাবরেটরি রয়েছে:

  1. আণবিক শক্তি সেন্টার, ঢাকা: মৌলিক ও প্রায়োগিক পারমাণবিক গবেষণার অন্যতম প্রাচীন কেন্দ্র।
  2. আণবিক শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (AERE), সাভার: দেশের পরমাণু গবেষণার মূল প্রাণকেন্দ্র, যেখানে চুল্লী অপারেশন, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স এবং অণু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট অবস্থিত।
  3. খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (IFRB): সাভারে অবস্থিত এই ইনস্টিটিউটে খাদ্য সংরক্ষণ, বিকিরণ প্রযুক্তি এবং জীবাণুনাশক গবেষণার কাজ করা হয়।
  4. অণু মেডিসিন ইনস্টিটিউট ও কেন্দ্রসমূহ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU) প্রাঙ্গণসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত অণু মেডিসিন অ্যান্ড আল্ট্রাসাউন্ড সেন্টারগুলোর মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করে ক্যান্সার ও অন্যান্য জটিল রোগের রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
  5. অন্যান্য ইউনিটসমূহ: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বালি অপারেশনস সেন্টার এবং দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ল্যাবরেটরি।

জাতীয় অর্থনীতি ও চিকিৎসায় বহুমুখী অবদান

বাপশক কেবল তত্ত্বীয় গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের জনকল্যাণে এর বহুমুখী ভূমিকা রয়েছে:

  1. চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ক্যানসার নির্ণয়: দেশের বিভিন্ন পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের মাধ্যমে থাইরয়েড ও ক্যানসার রোগীদের রেডিওথেরাপি এবং রেডিওআইসোটোপ থেরাপি নিশ্চিত করা হয়।
  2. কৃষি ও খাদ্য সংরক্ষণ: বিকিরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি এবং উন্নত জাত উদ্ভাবনে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালিত হয়।
  3. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও সুরক্ষায় কমিশন মূল বৈজ্ঞানিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।


স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সম্পর্কে

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।