বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

লালবাগ • ঢাকা জেলা • ঢাকা

৭১
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
+ ৫ টি

বিস্তারিত বিবরণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—যাকে আমরা সবাই বুয়েট নামে চিনি—বাংলাদেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে সম্মানিত আর সবচেয়ে কঠিন জায়গা। ঢাকার পলাশী আর লালবাগ এলাকায় প্রায় ৮৪ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাস শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয় না। এটা বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্পায়ন আর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অন্যতম প্রধান সূতিকাগার।

এর গল্পটা শুরু হয়েছিল অনেক আগে, ১৮৭৬ সালে। তখন নাম ছিল ঢাকা সার্ভে স্কুল। ব্রিটিশ সরকারের জরিপ আর ছোটখাটো নির্মাণকাজের জন্য কিছু লোক তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এটা খোলা হয়েছিল। তারপর ১৯০৮ সালে নবাব আহসানউল্লাহর অনুদানে এটা আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে রূপ নেয়। তখন থেকেই পুরকৌশল, তড়িৎ আর যন্ত্রকৌশলের ডিপ্লোমা চালু হয়।

দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হয়ে যায়। তখন থেকেই চার বছরের বি.এসসি ডিগ্রি দেওয়া শুরু হয়। এরপর ১৯৬২ সালের ১ জুন পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে—নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম উপাচার্য ছিলেন ড. এম. এ. রশীদ। আর স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে এর নাম হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এটা দেশের প্রযুক্তি শিক্ষার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

প্রশাসনিক দিক থেকে বুয়েট সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত। আচার্য হলেন দেশের রাষ্ট্রপতি। উপাচার্য হলেন মূল কার্যনির্বাহী। তার সঙ্গে সিন্ডিকেট আর একাডেমিক কাউন্সিল মিলে নীতি নির্ধারণ করে। এছাড়াও গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য আলাদা কমিটি আছে।

এখনকার বুয়েটে পাঁচটা অনুষদ আছে। পুরকৌশল অনুষদের অধীনে পুরকৌশল আর পানি সম্পদ কৌশল। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল অনুষদে ইইই, সিএসই আর বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং। যন্ত্রকৌশল অনুষদে যন্ত্রকৌশল, শিল্প ও উৎপাদন কৌশল আর নেভাল আর্কিটেকচার। কেমি ও ধাতব কৌশল অনুষদে কেমিকৌশল, ম্যাটেরিয়ালস আর পেট্রোলিয়াম। আর স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদে স্থাপত্য আর নগর পরিকল্পনা বিভাগ।

ক্যাম্পাসটাও বেশ সুন্দর আর পরিকল্পিত। পুরনো লাল ইটের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে সাততলা পুরকৌশল ভবন, ড. রশীদ একাডেমিক ভবন, যন্ত্রকৌশল ভবন, স্থাপত্য ভবন—সবকিছুই আছে। সম্প্রতি পশ্চিম প্রাঙ্গণে বারোতলাবিশিষ্ট ইসিই ভবন তৈরি হয়েছে, যেখানে ইইই, সিএসই আর বায়োমেডিকেল বিভাগের ক্লাস হয়।

হলগুলোর মধ্যে আছে ড. এম. এ. রশীদ হল, তিতুমীর হল, শেরে বাংলা হল, নজরুল ইসলাম হল, আহসানউল্লাহ হল, সোহরাওয়ার্দী হল আর শহীদ স্মৃতি হল। ছাত্রীদের জন্যও আলাদা হল আছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, সুপারকম্পিউটিং সেন্টার, অডিটোরিয়াম, মেডিকেল সেন্টার—সবকিছুই ক্যাম্পাসের ভেতরে।

এককথায়, বুয়েট শুধু ডিগ্রি দেওয়ার জায়গা না। এখান থেকেই বেরিয়েছেন দেশের অবকাঠামো গড়ে তোলা অসংখ্য প্রকৌশলী। যারা এখানে পড়েছেন, তারা জানেন কতটা চাপ আর কতটা গর্ব একসঙ্গে বয়ে বেড়াতে হয়।

স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।