বারডেম জেনারেল হাসপাতাল
শাহবাগ • ঢাকা জেলা • ঢাকা



বিস্তারিত বিবরণ
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল: ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক গবেষণার বিশ্বমানের পথিকৃৎ
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল (BIRDEM General Hospital) বাংলাদেশের ডায়াবেটিস চিকিৎসা, চিকিৎসা গবেষণা ও মেটাবলিক ডিসঅর্ডার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে অত্যন্ত কৌশলগত ও সুবিধানজনক স্থানে এটি অবস্থিত। বিশিষ্ট চিকিৎসক ও মানবহিতৈষী জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম কর্তৃক ১৯৫৬ সালে সূচিত বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (BADAS) সরাসরি পরিচালনায় এই হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিচালিত হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের সুচিকিৎসা, বহুমূত্র প্রতিরোধে বিশ্বমানের গবেষণা, প্রান্তিক মানুষের পুনর্বাসন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বারডেম এশিয়ার মধ্যে এক বিরল ও ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডায়াবেটিস চিকিৎসার পাশাপাশি এটি বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে রূপ নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস
বারডেমের উত্থান এবং একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথ পরিক্রমা অত্যন্ত দূরদর্শী উদ্যোগের ফসল:
সমিতি গঠন ও সূচনা
২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬
জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও কয়েকজন সুধীজনের উদ্যোগে সেগুনবাগিচায় 'পাকিস্তান ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন' (স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি) গঠিত হয়। সেগুনবাগিচায় ডা. ইব্রাহিমের বাসভবনের নিচতলায় বহির্বিভাগীয় সেবার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু।
শাহবাগ কমপ্লেক্স ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি
১৯৮০
শাহবাগে নিজস্ব বহুতল ভবনে বারডেম হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক আধুনিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বারডেমকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে তাদের 'সহযোগী কেন্দ্র' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা ইউরোপের বাইরে বিশ্বজুড়ে প্রথম স্বীকৃতি।
উচ্চতর শিক্ষা ও নামকরণ
১৯৮৬ - ১৯৮৯
উচ্চতর চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার ডিগ্রি চালু হয়। ১৯৮৯ সালে ডা. ইব্রাহিমের প্রয়াণের পর তাঁর অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে শাহবাগের মূল প্রাঙ্গণকে 'ইব্রাহিম মেমোরিয়াল ডায়াবেটিস সেন্টার' নামে অভিহিত করা হয়।
বারডেম-২ ও জেনারেল সার্ভিস পরিবর্ধন
২০১৩ - বর্তমান
সেগুনবাগিচায় মহিলা ও শিশুদের জন্য 'বারডেম-২' চালু হয়। কেবল ডায়াবেটিসের মধ্যে সীমিত না রেখে সার্বিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির নাম পুনর্নির্ধারণ করে 'বারডেম জেনারেল হাসপাতাল' রাখা হয়।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও রূপরেখা
বারডেম মূলত 'বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি' (BADAS)-এর একটি মূল অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
- পরিচালনা সংস্থা: এটি সম্পূর্ণরূপে স্বায়ত্তশাসিত ও অলাভজনক সামাজিক ট্রাস্ট হিসেবে গঠিত বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির জাতীয় পরিষদ ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ: বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির আওতায় বারডেম ছাড়াও পরিচালিত হয় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, বারডেম নার্সিং কলেজ, পুনর্বাসন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক।
অবকাঠামো ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা
শাহবাগে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে অবস্থিত বারডেম জেনারেল হাসপাতাল সুবিশাল তিনটি সুউচ্চ বহুতল ভবনে বিভক্ত (১৬ তলা উত্তর ভবন, ৮ তলা দক্ষিণ ভবন এবং ৫ তলা মধ্যম ভবন)।
১. শয্যা ও চিকিৎসাসেবা
হাসপাতালটিতে মোট ৮৫০টিরও বেশি শয্যা রয়েছে (১০৩টি আধুনিক কেবিন এবং ৭৪৭টি ওয়ার্ড ভিত্তিক শয্যা)। আন্তর্জাতিক মানের আইসিইউ, বহির্বিভাগ এবং চব্বিশ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসা সেবা এখানে সার্বক্ষণিক সচল থাকে। প্রতিদিন বহুসংখ্যক রোগীর জন্য স্বল্পমূল্যে এবং অসচ্ছল/গরীব রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।
২. বিশেষায়িত বিভাগ ও অপারেশন সুবিধা
এখানে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে ১১টিরও বেশি প্রধান চিকিৎসাবিভাগে সেবা দেওয়া হয়। এতে রয়েছে সর্বাধুনিক এনজিওগ্রাম, ওপেন হার্ট সার্জারি, বাইপাস সার্জারি, কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন (প্রতিস্থাপন), হেপাটোলজি, ইউরোলজি, জেনারেল সার্জারি এবং ল্যাপারোস্কোপিক সুবিধার উন্নত অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্স।
শিক্ষায়তনিক কার্যক্রম ও গবেষণা
বারডেম কেবল চিকিৎসালয় নয়, বরং এটি একটি স্বনামধন্য উচ্চতর গবেষণাপ্রতিষ্ঠান। এটি দেশের ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইনোলজি এবং মেটাবলিক রোগের ওপর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষা (MD, MPhil, PhD, Diploma) প্রদান করে থাকে। বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরির মাধ্যমে এখানে ক্রমাগত নিত্যনতুন ক্লিনিক্যাল গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল সম্পর্কে
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।
উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।