চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও প্রাণী সংগ্রহশালা
পাহাড়তলী • চট্টগ্রাম • চট্টগ্রাম



বিস্তারিত বিবরণ
চট্টগ্রাম শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে, পাহাড়তলীর ফয়’স লেক এলাকার পাহাড়ঘেরা সবুজে ঘেরা পরিবেশে অবস্থিত 'চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা'। এটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা এবং শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিড়িয়াখানাটি সময়ের পরিক্রমায় আজ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল আশির দশকের শেষভাগে। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে ফয়’স লেক এলাকায় বিনোদন ও গবেষণার উদ্দেশ্যে একটি চিড়িয়াখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় ৬ একর জায়গায় মাত্র ৪ প্রজাতির ১৬টি প্রাণী নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এর পরিসর বৃদ্ধি করা হয় এবং বর্তমানে এটি ১০.২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। অবশেষে ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
জীববৈচিত্র্য ও আকর্ষণ
চিড়িয়াখানাটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাকৃতিক পরিবেশ; পাহাড়ের পাদদেশে খাঁচাগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত যা অনেকটা প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসের অনুভূতি দেয়। বর্তমানে এখানে ৬৬ প্রজাতির প্রায় ৬ শতাধিক পশুপাখি রয়েছে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণী: এই চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ হলো বাঘ। বিশেষ করে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জন্ম নেওয়া সাদা বাঘ এখানে দর্শকদের নজর কাড়ে। এছাড়া এখানে রয়েছে আফ্রিকান জেব্রা, এশীয় কালো ভালুক, ভারতীয় সিংহ, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, উল্টো লেজি বানর, এবং উল্লুক।
- পাখি ও সরীসৃপ: চিড়িয়াখানার মিনি এভিয়ারি বা পক্ষীশালায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণ দেখার মতো। ময়ূর, রাজ ধনেশ, মদনটাক, তিতির এবং বিভিন্ন প্রজাতির তোতা এখানে রয়েছে। পাশাপাশি সরীসৃপ পর্যায়ে অজগর এবং কুমির দর্শকদের বিশেষ আকর্ষণ করে।
ব্যবস্থাপনা ও বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই চিড়িয়াখানা পরিচালিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে প্রাণীর সংখ্যা এবং বৈচিত্র্য বাড়লেও দর্শনার্থীদের চাহিদাকে মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। খাঁচাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রাণীদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা হয় নিবিড়ভাবে। এটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও প্রাণী সংগ্রহশালা সম্পর্কে
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও প্রাণী সংগ্রহশালা হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।
উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।