চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

হাটহাজারী • চট্টগ্রাম • চট্টগ্রাম

৭২
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
+ ২ টি

বিস্তারিত বিবরণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়—যাকে আমরা সবাই চবি নামে চিনি—দেশের সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে সুন্দর ক্যাম্পাসগুলোর একটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় বাইশ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারীর পাহাড়ি এলাকায় আড়াই হাজার একরেরও বেশি জমিতে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয় আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ। পাহাড়, জঙ্গল, উপত্যকা আর নৈসর্গিক পরিবেশ মিলে এমন একটা জায়গা তৈরি হয়েছে যেখানে পড়তে এসে অনেকেই প্রথমে পরিবেশের কাছে হার মানে। আর শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সেই বিখ্যাত শাটল ট্রেন তো চবির একদম নিজস্ব পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পেছনে আছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৪০ সালে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী প্রথম চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব দেন। পরে ১৯৪২ সালে নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে দাবি তোলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। ১৯৬১ সালে যখন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়, তখন আন্দোলন জোরদার হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর উপস্থিতিতে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। অবশেষে ১৯৬৪ সালে হাটহাজারীর পাহাড়ি এলাকা বেছে নেওয়া হয় আর আইয়ুব খান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম প্রকল্প পরিচালক ছিলেন ইতিহাসবিদ ড. আজিজুর রহমান মল্লিক। স্থপতি মাজহারুল ইসলামের সংস্থা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধে চবির অবদানও কম নয়। ৮ মার্চ উপাচার্য ড. আজিজুর রহমান মল্লিকের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। পাকিস্তানি বাহিনী ক্যাম্পাসে ঘাঁটি আর কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বানিয়েছিল। যুদ্ধে একজন শিক্ষক, বারোজন শিক্ষার্থী আর তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী—মোট ষোলজন শহীদ হন। প্রকৌশল দপ্তরের কর্মী মোহাম্মদ হোসেন নৌ-কমান্ডো হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব পান। অবশেষে ২৫ ডিসেম্বর ক্যাম্পাস শত্রুমুক্ত হয়।

এখন এখানে প্রায় সাতাশ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আর নয়শোর বেশি শিক্ষক আছেন। নয়টা অনুষদ আর একুশটা অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান চলছে। আর একটা গর্বের বিষয় হলো—ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করার সময়ই গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ শুরু করেছিলেন, যা পরে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়।

ক্যাম্পাসে কয়েকটা বিরল জাদুঘরও আছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে আছে প্রাচীন শিলালিপি, পাহাড়পুরের পোড়ামাটির ফলক, মোগল আমলের কামান আর নানা ধরনের শিল্পকর্ম। প্রাণিবিদ্যা জাদুঘরে পাঁচশোর বেশি নমুনা সংরক্ষিত। সমুদ্র সম্পদ জাদুঘরে আছে হাঙ্গর, অক্টোপাসসহ নানা দুর্লভ সামুদ্রিক প্রাণী।

ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জয় বাংলা ভাস্কর্য আর স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরাল—প্রতিটাই ক্যাম্পাসের ইতিহাসকে জীবন্ত করে রেখেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাহাড় আর প্রকৃতির জন্য নয়। এটা স্বাধিকার আন্দোলনেরও একটা দুর্গ। যারা এখানে পড়েছেন, তারা জানেন এই বিশাল ক্যাম্পাসের নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর সংগ্রামী ঐতিহ্য কীভাবে একসঙ্গে মিশে আছে।


স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।