ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শাহবাগ • ঢাকা জেলা • ঢাকা



বিস্তারিত বিবরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে গর্বের বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা যারা এই ক্যাম্পাসে পড়েছি বা এখনো পড়ছি, তারা সবাই জানি এটাকে কেন ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা খুলেছিল, তখন থেকেই এখানে অক্সফোর্ডের মতো টিউটোরিয়াল আর আবাসিক পদ্ধতির চল ছিল। ভালো শিক্ষক, কঠোর মান আর আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম—সব মিলিয়েই এই নামটা এসেছে।
এর জন্মের ইতিহাসটাও খুব মজার। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ববঙ্গের মানুষদের একটা ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ওঠে। নবাব সলিমুল্লাহ, নওয়াব আলী চৌধুরী আর শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের আবেদনে লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১২ সালে প্রতিশ্রুতি দেন। তারপর নাথান কমিটি, স্যাডলার কমিশন—সবকিছু পেরিয়ে ১৯২০ সালে আইন পাস হয় আর ১৯২১-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু। মাত্র তিনটা অনুষদ, বারোটা বিভাগ, ষাটজন শিক্ষক আর ৮৭৭ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে। তার মধ্যে একজন নারী শিক্ষার্থীও ছিলেন—লীলা নাগ।
কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়ালেখার জায়গা না। এটা আমাদের জাতীয় ইতিহাসেরও কেন্দ্রবিন্দু। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আর ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—সবকিছুরই মূল মঞ্চ ছিল এই ক্যাম্পাস। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল, সেটা আজও আমাদের বুকে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে।
এখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বড় হয়ে গেছে। তেরোটা অনুষদ, তিরাশিটা বিভাগ, তেরোটা ইনস্টিটিউট আর ছাপ্পান্নটা গবেষণা কেন্দ্র। হল আছে বিশটা, ছাত্রাবাস চারটা। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, জগন্নাথ হল, রোকেয়া হল—এই নামগুলো শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরনো স্মৃতি। আর অধিভুক্ত কলেজ আছে একশো পাঁচটা।
ক্যাম্পাসের অবকাঠামোও অসাধারণ। কার্জন হলের লাল ইটের ভবনটা আজও আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে। টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন—এগুলো শুধু জায়গার নাম না, এগুলো আমাদের সংগ্রামের স্মারক। অপরাজেয় বাংলা, রাজু ভাস্কর্য, স্মৃতি চিরন্তন—প্রতিটা ভাস্কর্য যেন আমাদের ইতিহাসকে জীবন্ত করে রেখেছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বেরিয়েছেন দেশের তেরোজন রাষ্ট্রপতি, সাতজন প্রধানমন্ত্রী। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এই ক্যাম্পাসেরই সন্তান। সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী—এমন সব মহান মানুষ এখানে পড়িয়েছেন আর গবেষণা করেছেন।
এককথায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না। এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। যারা এখানে পড়েছেন বা পড়ছেন, তারা সবাই একটু গর্ব অনুভব করেন—কারণ এই ক্যাম্পাসই বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সাক্ষী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।
উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।