ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া সদর • কুষ্টিয়া • খুলনা

২৬১
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

বিস্তারিত বিবরণ

কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী শান্তিপ্রিয় পরিবেশে অবস্থিত ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’ (সংক্ষেপে ইবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বাধীন বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে ইসলামিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সুসমন্বিত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতার পর নবগঠিত বাংলাদেশে আধুনিক উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং ইসলামি শিক্ষার সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮০ সালে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস হয়।

প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ৪টি বিভাগ নিয়ে এর একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। শুরুর দিকে কুষ্টিয়া শহর থেকে কিছুটা দূরে শান্তিডাঙা-দুলালপুর এলাকায় এর ক্যাম্পাস স্থাপিত হলেও সময়ের সাথে সাথে এর অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

ক্যাম্পাস ও ভৌগোলিক অবস্থান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসটি কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ উভয় জেলার সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার এবং ঝিনাইদহ শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে প্রায় ১৭৫ একর জমির ওপর এই সবুজ চত্বর গড়ে উঠেছে।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাসটি সম্পূর্ণ আবাসিক প্রকৃতির। ক্যাম্পাসের চারপাশের সবুজ গাছপালা, নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি এবং বিশাল খেলার মাঠ এর পরিবেশকে স্নিগ্ধ ও মনোরম করে তুলেছে। এখানে যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ও পরিবহন ব্যবস্থার সুব্যবস্থা রয়েছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্মুক্ত।

একাডেমিক কাঠামো ও অনুষদসমূহ

প্রতিষ্ঠার সময় হাতে গোনা কয়েকটি বিভাগ থাকলেও বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি অনুষদের অধীনে বহু বিভাগ ও ইনস্টিটিউট চালু রয়েছে। প্রধান অনুষদগুলো হলো:

  1. ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী স্টাডিজ অনুষদ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ইত্যাদি।
  2. কলা অনুষদ: বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, আরবি ইত্যাদি।
  3. বিজ্ঞান অনুষদ: গণিত, পরিসংখ্যান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল ইত্যাদি।
  4. ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ: হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, মার্কেটিং ইত্যাদি।
  5. প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ইত্যাদি।
  6. আইন অনুষদ: আইন বিভাগ এবং আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
  7. সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ: অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, সমাজকল্যাণ ইত্যাদি।
  8. বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদ: বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি ইত্যাদি।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য বেশ কিছু বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট রয়েছে।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও বসবাসের মানোন্নয়নে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সকল আধুনিক অবকাঠামো বিদ্যমান:

  1. কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি: বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার দুর্লভ বই, জার্নাল, সাময়িকী এবং ডিজিটাল রিসোর্স বা ই-রিসোর্সের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।
  2. আবাসিক হলসমূহ: শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করার জন্য ক্যাম্পাসের ভেতরে একাধিক ছাত্র ও ছাত্রী হল রয়েছে। এখানে আবাসিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যেও বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হয়।
  3. কেন্দ্রীয় গবেষণাগার ও কম্পিউটার সেন্টার: শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ গবেষণাগার এবং আইসিটি সেন্টার।
  4. অন্যান্য সুবিধা: টিএসসি (শিক্ষার্থী শিক্ষক কেন্দ্র), ক্যাফেটেরিয়া, চিকিৎসাকেন্দ্র, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম এবং মসজিদ।

বর্তমান অবস্থা ও অবদান

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আজ আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রদানে সচেষ্ট। এখানে নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণার ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী পাশ করে বের হয়ে দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, গবেষণা, কর্পোরেট সেক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সম্পর্কে

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।