জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সাভার উপজেলা • ঢাকা জেলা • ঢাকা

৯৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
+ ৩ টি

বিস্তারিত বিবরণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়—যাকে আমরা জাবি নামে চিনি—বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার জগতে একটা আলাদা জায়গা দখল করে আছে। এটা দেশের প্রথম এবং এখনো একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ এখানে পড়তে হলে হলে থাকতেই হবে, কেউ বাইরে থেকে আসা-যাওয়া করে পড়তে পারে না। সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে প্রায় ৭০০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাস সবুজে ভরা, জলাশয়ে ভরা আর শীতকালে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির আস্তানা। অনেকেই তাই একে ‘প্রকৃতির কন্যা’ বলে ডাকে।

নামকরণটাও ইতিহাস থেকে এসেছে। ঢাকার পুরনো নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর। সেখান থেকেই এই নাম। ১৯৬৭-৬৮ সালে সাভারের সরকারি ডেইরি ফার্মের জমি নিয়ে কাজ শুরু হয়। ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট অধ্যাদেশ জারি করে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথম উপাচার্য ছিলেন ড. মফিজউদ্দিন আহমদ। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। তখন মাত্র ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত আর পরিসংখ্যান বিভাগে ক্লাস শুরু হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টে ‘মুসলিম’ শব্দটা বাদ দিয়ে নাম রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তখন থেকেই এটা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলছে। এখন এখানে ছয়টা অনুষদ, ছত্রিশটা বিভাগ, চারটা ইনস্টিটিউট আর একুশটা আবাসিক হল আছে।

প্রশাসনিক কাঠামো অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই। আচার্য হলেন রাষ্ট্রপতি, উপাচার্য হলেন মূল প্রধান। সিন্ডিকেট, সেনেট আর একাডেমিক কাউন্সিল মিলে নীতি ঠিক করে।

অনুষদগুলোর মধ্যে আছে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও মানবিকী অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ আর আইন অনুষদ। দেশের প্রথম নৃবিজ্ঞান বিভাগও এখানেই। ইনস্টিটিউটের মধ্যে আছে আইবিএ, আইআইটি, রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএস ইনস্টিটিউট আর তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট।

ক্যাম্পাসের স্থাপত্য আর ভাস্কর্যগুলোও বেশ নজরকাড়া। নতুন কলা ভবনের সামনে দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার দাঁড়িয়ে আছে—৭১ ফুট উঁচু। সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গ্রিক স্টাইলের উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চ। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংশপ্তক ভাস্কর্য—এক হাত-পা হারানো মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। অমর একুশে ভাস্কর্য আর সাম্প্রতিক অদম্য ২৪ স্মৃতিস্তম্ভও আছে।

হলগুলোর তালিকাও লম্বা। ছেলেদের জন্য নবাব সলিমুল্লাহ হল, মীর মশাররফ হোসেন হল, আল বেরুনী হল, শহীদ সালাম-বরকত হলসহ আরও অনেক হল। মেয়েদের জন্য ফজিলতুন্নেসা হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল, প্রীতিলতা হল, জাহানারা ইমাম হলসহ কয়েকটা বড় হল আছে।

জাহাঙ্গীরনগর শুধু পড়ালেখার জায়গা না। এখানকার শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আর সাম্প্রতিক গণআন্দোলন—সবকিছুতেই সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। প্রকৃতি, ইতিহাস আর সংগ্রাম—এই তিনে মিলেই জাবির পরিচয়।

স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।