মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

শেরেবাংলা নগর • ঢাকা জেলা • ঢাকা

৭২
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
+ ১ টি

বিস্তারিত বিবরণ

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:স্থাপত্য

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগ আর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণকারী বাংলাদেশের প্রধান বেসরকারি জাদুঘর। আটজন ট্রাস্টির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি এখন ঢাকার আগারগাঁওয়ে নিজের সুপরিসর ভবনে অবস্থিত। এছাড়া এটি “ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন অব সাইটস অব কনসাইন্স”-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও ভবন স্থানান্তর

জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয় ২২ মার্চ ১৯৯৬ সালে। ঢাকার সেগুনবাগিচার একটা ভাড়া করা পুরনো ভবনে আটজন ট্রাস্টির উদ্যোগে এবং জনগণের সহযোগিতায় এর আনুষ্ঠানিক শুভসূচনা ঘটে।

১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে মিরপুরের জল্লাদখানা বধ্যভূমি খনন শেষে সেখানে একটা পূর্ণাঙ্গ ‘বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠ’ গড়ে তোলা হয়।

স্থানস্বল্পতা দূর করতে ৪ মে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগারগাঁওয়ে ০.৮২ একর জমিতে ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ১৬ এপ্রিল ২০১৭ সালে আগারগাঁওয়ের আধুনিক ছয়তলা ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জাদুঘরের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়।

ভবন অবকাঠামো ও প্রদর্শন গ্যালারি

এক লাখ ৮৫ হাজার বর্গফুটের ছয়তলাবিশিষ্ট এই সুবিশাল ভবনে মোট ছয়টি প্রধান প্রদর্শন গ্যালারি রয়েছে (চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় অবস্থিত):

  1. প্রথম গ্যালারি: প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বাঙালি জাতির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন।
  2. দ্বিতীয় গ্যালারি: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিলের প্রবাসী সরকার গঠন পর্ব পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ। এতে আলো ও শব্দ প্রক্ষেপণে ২৫ মার্চের গণহত্যার ভয়াবহ রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
  3. তৃতীয় ও চতুর্থ গ্যালারি: শরণার্থীদের ভারতে যাত্রা, মুক্তি সংগ্রাম, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রতিরোধ যুদ্ধ।
  4. শেষ গ্যালারি: মিত্র ও যৌথ বাহিনীর অভিযান, বুদ্ধিজীবী হত্যা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিজয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস।

গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম

জাদুঘর শুধু প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো:

  1. ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর (Mobile Museum): প্রদর্শনীযুক্ত একটা বিশেষ বাসের মাধ্যমে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলা ও উপজেলার শিক্ষার্থীদের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস ও সাক্ষীদের অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়া হয়।
  2. আউটরিচ কর্মসূচি ও মুক্তির উৎসব: ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত জাদুঘর পরিদর্শনে নিয়ে আসা হয় এবং বাৎসরিক ‘মুক্তির উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়।
  3. জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠ: মিরপুরের জল্লাদখানায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বিশেষ স্মৃতিপীঠ ও গণহত্যা প্রদর্শনী পরিচালনা করা হয়।
  4. প্রামাণ্যচিত্র উৎসব ও বজলুর রহমান পদক: প্রতি বছর আন্তর্জাতিক ‘মুক্তি ও মানবাধিকার প্রামাণ্যচিত্র উৎসব’ আয়োজন করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক’ প্রদান করা হয়।


স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সম্পর্কে

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।