জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

শেরেবাংলা নগর • ঢাকা জেলা • ঢাকা

২৭
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

বিস্তারিত বিবরণ

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল: মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার জাতীয় কেন্দ্র

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (National Institute of Mental Health and Hospital - NIMH) বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক ব্যাধি সংক্রান্ত উচ্চতর গবেষণা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষার সর্বাগ্রগণ্য ও একমাত্র সরকারি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় ৭২৪৩.৮৭৩ বর্গমিটার জমির ওপর সুবিশাল অবকাঠামো নিয়ে এটি অবস্থিত।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সামাজিক অন্ধবিশ্বাস (Stigma) দূরীকরণ, সর্বস্তরের জনগণের জন্য সুলভ মূল্যে উন্নত মানসিক চিকিৎসা সুনিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তৈরির ক্ষেত্রে এই ইনস্টিটিউটের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের জটিল মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধির আধুনিক সমন্বিত চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।

প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস

বাংলাদেশের মানসিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও সুসংহত করার লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের উত্থান এক বৈচিত্র্যময় পথ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে ঘটেছিল:


প্রাথমিক সূচনা

ফেব্রুয়ারি ১৯৮১

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একটি বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ সংস্থা হিসেবে প্রথম যাত্রা শুরু হয়।


পৃথক সত্তা ও নামকরণ

১৯৮৬

প্রতিষ্ঠানটিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে 'মানসিক স্বাস্থ্য ও গবেষণা ইনস্টিটিউট' নামকরণ করা হয়।


ঠিকানা পরিবর্তন

১৯৯৩

প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষায়তনিক ঠিকানা অস্থায়ীভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত হয়।


স্থায়ী ভবনে রূপান্তর ও সম্প্রসারণ

১৯ অক্টোবর ১৯৯২ - ২০০১

ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বর্তমান নিজস্ব সুবিশাল প্রাঙ্গণে এটি স্থানান্তরিত হয় এবং ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে শয্যা সংখ্যা ৪০০-তে প্রসারিত করা হয়।

প্রশাসনিক কাঠামো ও বিশেষজ্ঞ বিভাগসমূহ

প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। একজন বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচালকের দায়িত্বে থেকে এর সার্বিক পরিচালনা নিশ্চিত করেন।

ইনস্টিটিউটটি বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত বিভাগে বিভক্ত:

  1. প্রাপ্তবয়স্ক মনোরোগবিদ্যা বিভাগ (Adult Psychiatry): বিষণ্ণতা, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিসঅর্ডারসহ প্রাপ্তবয়স্কদের সকল জটিল মানসিক রোগের উন্নত চিকিৎসা।
  2. শিশু, কিশোর ও বিকাশজনিত মনোরোগবিদ্যা বিভাগ (Child and Adolescent Psychiatry): অটিজম, এডিএইচডি (ADHD), আচরণগত সমস্যা এবং মানসিক বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতার বিশেষায়িত ইউনিট।
  3. কমিউনিটি ও প্রিভেন্টিভ সাইকিয়াট্রি বিভাগ: প্রান্তিক ও স্থানীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
  4. সহযোগী মেডিকেল বিভাগসমূহ: নিউরো-রেডিওলজি, অ্যানেস্থেশিয়োলজি, প্যাথলজি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি, পেশাগত থেরাপি এবং সমাজকল্যাণ বিভাগ।

চিকিৎসাসেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা

  1. বিশাল শয্যা সক্ষমতা: হাসপাতালে বর্তমানে ৪০০টি শয্যা রয়েছে, যেখানে ইনডোর বা আবাসিক রোগীদের সার্বক্ষণিক নিবিড় তত্ত্বাবধানে সেবা প্রদান করা হয়।
  2. সুলভ বহিঃবিভাগ চিকিৎসা: মাত্র নামমাত্র মূল্যে প্রতিদিন শত শত রোগী বহির্বিভাগ (Outdoor) থেকে মানসিক রোগের ওষুধ ও পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা গ্রহণ করে থাকেন।
  3. জরুরি মনোরোগ চিকিৎসা: তীব্র মানসিক অস্থিরতা বা আত্মঘাতী প্রবণতা সংবলিত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা বিভাগ বিদ্যমান।
  4. বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: মনোরোগ বিদ্যায় উচ্চতর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (MD, MPhil, Diploma) প্রদান এবং মেডিকেল অফিসার, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সম্পর্কে

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।