রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মতিহার • রাজশাহী • রাজশাহী

৭৯
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
+ ৩ টি

বিস্তারিত বিবরণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—যাকে আমরা রাবি নামে চিনি—উত্তরবঙ্গের শিক্ষার আলোকবর্তিকা আর বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটিকে অনেকেই ‘প্রাচ্যের কেমব্রিজ’ বলে ডাকে। মতিহারের প্রায় ৭৫৩ একর সবুজ প্রাঙ্গণ, উঁচু গগনশিরীষ আর বিখ্যাত প্যারিস রোড—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসটা যেন একটা আলাদা জগৎ।

প্রতিষ্ঠার পেছনে আছে লম্বা সংগ্রামের গল্প। দেশভাগের পর উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকায় মানুষ দাবি তুলতে থাকে। ১৯৫২ সালে ভুবন মোহন পার্কে জনসভায় মাদার বখশ হুশিয়ারি দিয়েছিলেন—রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় না দিলে উত্তরবঙ্গকে আলাদা প্রদেশ করার দাবি তোলা হবে। অবশেষে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ আইন পাস হয়। প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেরীকে প্রথম উপাচার্য করে রাজশাহী কলেজের প্রাঙ্গণে মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস শুরু হয়।

পরে মতিহারে স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি হয়। অস্ট্রেলীয় স্থপতি ড. সোয়ানি টমাসের নকশায় দালানকোঠা ও রাস্তাঘাট তৈরি হয় এবং ১৯৬৪ সালের মধ্যে সবকিছু এখানে চলে আসে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯। স্বাধিকার আন্দোলনের সময় ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা প্রাণ দিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী।

প্রশাসনিক কাঠামো অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই। আচার্য রাষ্ট্রপতি, উপাচার্য মূল প্রধান। সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল আর অর্থ কমিটি মিলে সবকিছু পরিচালনা করে।

এখন এখানে বারোটা অনুষদের অধীনে ঊনষাটটা বিভাগ আছে। কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, জীববিজ্ঞান, ভূ-বিজ্ঞান, ফিশারীজ, চারুকলা আর ভেটেরিনারি—সবকিছুই আছে। উচ্চতর গবেষণার জন্য ছয়টা ইনস্টিটিউটও চালু আছে। এর মধ্যে আইবিএস, আইবিএ, পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট আর ভাষা ইনস্টিটিউট উল্লেখযোগ্য। আর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই পরিচালিত হয়।

ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর আর প্রশাসন ভবন। পাশ দিয়ে চলে গেছে বিখ্যাত প্যারিস রোড। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে তিন লাখের বেশি বই আছে। একাডেমিক ভবনগুলোর নামও বেশ গর্বের—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভবন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু ভবনসহ আরও অনেক।

ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত সাবাশ বাংলাদেশ। সিনেট ভবনের পাশে নিতুন কুণ্ডুর তৈরি এই ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের স্মারক। শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে আছে স্ফুলিঙ্গ। সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার আর বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভও ক্যাম্পাসের গর্ব।

আবাসনের দিক থেকেও রাবি বেশ এগিয়ে। সতেরোটা হল আছে—এগারোটা ছেলেদের আর ছয়টা মেয়েদের। দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এখানে নিজস্ব স্টেডিয়াম, জিমনেশিয়াম, সুইমিংপুল আর বড় বাস নেটওয়ার্কও আছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উত্তরবঙ্গের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না। এটা দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যারা এখানে পড়েছেন, তারা জানেন এই ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ আর সংগ্রামী ঐতিহ্য কীভাবে একসঙ্গে মিশে আছে।

স্থাপনা তালিকায় ফিরে যান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান।

উপরের বিবরণ থেকে বিস্তারিত জানুন। তথ্যবক্স থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজেই পেয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কী?
উপরের “বিস্তারিত বিবরণ” সেকশনে এই স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য লেখা আছে।
অন্যান্য স্থাপনা কোথায় দেখব?
স্থাপনাসমূহ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেখতে পারবেন।