৭ই মার্চের ভাষণ, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুজিবনগর সরকার গঠন
বিস্তারিত বিবরণ
১৯৭১ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসের এই তিনটি ঘটনা ছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল স্তম্ভ। ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালিদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে, ২৬শে মার্চের ঘোষণা যুদ্ধ শুরু করে এবং ১৭ই এপ্রিলের মুজিবনগর সরকার সেই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক ও আইনি স্বীকৃতি দিয়ে বিজয়ের দিকে নিয়ে যায়।
১. ৭ই মার্চের ভাষণ (মানসিক প্রস্তুতি ও দিকনির্দেশনা) অলিখিত স্বাধীনতা
২৫ মিনিটের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু কোনো লিখিত কাগজ ছাড়া পুরো জাতিকে প্রস্তুত করেন। সরাসরি ‘বিদ্রোহ’ না ডেকে তিনি ৪টি শর্ত দিয়ে পাকিস্তানি জান্তাকে চেপে ধরেন, আবার একই সাথে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার নির্দেশ দেন। ইউনেস্কো ২০১৭ সালে এটিকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সময়কাল: ভাষণটি প্রায় ১৮ থেকে ১৯ মিনিট স্থায়ী ছিল (দুপুর ২:৪৫ থেকে বিকেল ৩:০৩) এবং এটি সম্পূর্ণ অলিখিত ছিল।
- ৪টি শর্ত: ১. সামরিক আইন (Martial Law) প্রত্যাহার, ২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, ৩. গণহত্যার তদন্ত করা, এবং ৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো (UNESCO) এই ভাষণকে 'Memory of the World International Register'-এ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
২. ২৬শে মার্চ (স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও প্রতিরোধ)
- অপারেশন সার্চলাইট: ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে।
- বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা: ২৫শে মার্চ রাত শেষ হয়ে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে (রাত ১২:২০ মিনিটে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআর-এর (EPR) ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- প্রচার: ২৬ ও ২৭শে মার্চ চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এম. এ. হান্নান এবং মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা বার্তা পাঠ করে প্রচার করেন।
৩. ১৭ই এপ্রিল: মুজিবনগর সরকার (আন্তর্জাতিক ও প্রশাসনিক রূপ)
- গঠন ও শপথ: ১০ই এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের ভবেরপাড়ার বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে।
- মন্ত্রিসভার প্রধান পদসমূহ:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন)।
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ।
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম. এ. জি. ওসমানী।
- আইনি রূপ: ১০ই এপ্রিল প্রনীত এবং ১৭ই এপ্রিল ঘোষিত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ (Proclamation of Independence) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কাজ করে, যা মুক্তিযুদ্ধকে আন্তর্জাতিক ও আইনি বৈধতা দেয়।
এই সরকারের জারি করা ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমাদের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য করে।
৭ই মার্চের ভাষণ, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুজিবনগর সরকার গঠন সম্পর্কে
৭ই মার্চের ভাষণ, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুজিবনগর সরকার গঠন হলো বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান।
অবস্থান: ঢাকা → ঢাকা জেলা।
১৯৭১ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসের এই তিনটি ঘটনা ছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল স্তম্ভ। ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালিদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে, ২৬শে মার্চের ঘোষণা যুদ্ধ শুরু করে এবং ১৭ই এপ্রিলের মুজিবনগর সরকার সেই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক ও আইনি স্বীকৃতি দিয়ে বিজয়ের দিকে নিয়ে যায়। ১. ৭ই মার্চের ভাষণ (মানসিক প্রস্তুতি ও...