১৯৭১ এর ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও বধ্যভূমিসমূহ
বিস্তারিত বিবরণ
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক পটভূমি :
১. রাও ফরমান আলীর গোপন ডায়েরি ও নীলনকশা
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড ছিলেন পাকিস্তানি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। বিজয়ের পর গভর্নমেন্ট হাউজ (বর্তমান বঙ্গভবন) থেকে উদ্ধারকৃত তাঁর নিজস্ব ডায়রিতে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীর নাম, ঠিকানা ও গাড়ি নম্বর পাওয়া যায়।
- তালিকা প্রণয়ন: আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর সাহায্যে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় নিখুঁত তালিকা তৈরি করা হয়।
- ডায়েরির প্রমাণ: উদ্ধার করা ডায়েরির একাধিক পাতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জি সি দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য, মুনীর চৌধুরীসহ বহু শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম স্বহস্তে লেখা ছিল।
- পরিকল্পনার উদ্দেশ্য: পাকিস্তানি জান্তা বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে। তাই বিজয়ের ঠিক ২ দিন আগে একটি পুরো জাতিকে স্থায়ীভাবে মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে এই সুনির্দিষ্ট তালিকা ধরে অপারেশন চালানো হয়।
২. প্রধান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিচয় ও সংক্ষিপ্ত তালিকা
১৪ই ডিসেম্বরে এবং এর ঠিক কিছুদিন পূর্বে বাসা থেকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে হত্যা করা বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে প্রধান কজন:
- শিক্ষাবিদ ও গবেষক: ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব (জি সি দেব), মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আনোয়ার পাশা, সিরাজুল হক খান, সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য।
- সাংবাদিক ও সাহিত্যিক: শহীদুল্লা কায়সার, সেলিনা পারভীন (একমাত্র নারী সাংবাদিক যিনি শহীদ হন), সিরাজুদ্দীন হোসেন, নিজামুদ্দীন আহমদ, খোন্দকার আবু তালেব।
- চিকিৎসক: ড. ফজলে রাব্বী, ড. আলিম চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ মর্তুজা, ড. শামসুদ্দীন আহমেদ।
- প্রকৌশলী ও অন্যান্য: জহির রায়হান (চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক; বিজয়ের পর ৩০শে জানুয়ারি ১৯৭২ সালে নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে মিরপুরে শহীদ হন)।
৩. রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমি এবং স্মৃতিসৌধ
পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর আল-বদররা বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে কাদামাখা কাদা-রঙা গাড়িতে করে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজে অবস্থিত টর্চার সেলে নির্যাতন করে।
- রায়েরবাজার বধ্যভূমি: মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি সংলগ্ন রায়েরবাজার ইটখোলা ছিল প্রধান হত্যাকাণ্ড ও লাশ ফেলার জায়গা। ১৮ই ডিসেম্বর বিজয়ের পর এখানে হাত-পা বাঁধা, চোখ বাঁধা এবং বিকৃতাবস্থায় অসংখ্য বুদ্ধিজীবীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
- মিরপুর বধ্যভূমি: মিরপুরের শেওড়াপাড়া, কল্যাণপুর এবং কালশী এলাকার বিভিন্ন নিচু জলাশয় ও ইটের ভাটায় বহু বুদ্ধিজীবীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
- স্মৃতিসৌধ নির্মাণ: শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান ও তাঁদের অবদানের স্মরণে ১৯৯৯ সালে রায়েরবাজারে "শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ" এবং মিরপুরে "জাতীয় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ" নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বর গোটা জাতি পরম শ্রদ্ধায় এই বীর সন্তানদের স্মরণ করে।
১৯৭১ এর ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও বধ্যভূমিসমূহ সম্পর্কে
১৯৭১ এর ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও বধ্যভূমিসমূহ হলো বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান।
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক পটভূমি : ১. রাও ফরমান আলীর গোপন ডায়েরি ও নীলনকশা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড ছিলেন পাকিস্তানি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। বিজয়ের পর গভর্নমেন্ট হাউজ (বর্তমান বঙ্গভবন) থেকে উদ্ধারকৃত তাঁর নিজস্ব ডায়রিতে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীর নাম, ঠিকানা ও...