ইতিহাস ও ঐতিহ্য

১৯৭১ এর ১লা মার্চ থেকে সাধারণ ধর্মঘট ও অসহযোগ আন্দোলন

১১৭

বিস্তারিত বিবরণ

মার্চ আন্দোলনের ৩৫টি কঠোর নির্দেশিকা (১৫ই মার্চ, ১৯৭১)

অসহযোগ আন্দোলন শুধু রাস্তায় বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি ধীরে ধীরে এক ধরনের বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য ১৫ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৫টি প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করেন। এর ফলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকেই পুরো পূর্ব পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে।

প্রধান নির্দেশিকাগুলোর মধ্যে ছিল—

  1. পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে কোনো ধরনের ট্যাক্স, খাজনা, শুল্ক বা রাজস্ব প্রদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  2. ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত সময়ের জন্য চালু রাখা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির না হয়ে পড়ে। তবে করাচি বা পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো অর্থ পাঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
  3. হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের বিচারকসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে না গিয়ে আন্দোলনকে সফল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
  4. বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এবং খাদ্য সরবরাহের যানবাহনগুলোকে আন্দোলনের আওতার বাইরে রেখে স্বাভাবিকভাবে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
  5. ডাক, টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন শুধু দেশের ভেতরে যোগাযোগের জন্য খোলা রাখা হয়। রেডিও ও টেলিভিশনকে সর্বাত্মক আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশাবলি প্রচার করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। না মানলে কর্মচারীদের কাজ বয়কট করার কথাও বলা হয়।

২. ১৬-২৪শে মার্চ: ঢাকা আলোচনা ও ইয়াহিয়ার সামরিক চক্রান্ত

১৫ই মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান আলোচনার অজুহাতে ঢাকায় আসেন। পরদিন ১৬ই মার্চ থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনে (বর্তমান সুগন্ধা) বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়ার মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে এই আলোচনায় পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোও যোগ দেন।

বাঙালির অবস্থান ছিল পরিষ্কার। বঙ্গবন্ধু চারটি শর্তে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রাজি ছিলেন— ১. সামরিক শাসন অবিলম্বে প্রত্যাহার, ২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, ৩. গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

কিন্তু ইয়াহিয়া ও তাঁর সামরিক জান্তা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ভান করে শুধু সময় ক্ষেপণ করছিলেন। তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জাহাজ ও উড়োজাহাজে করে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শক্তি বাড়ানো।

এরই মধ্যে ১৯শে মার্চ জয়দেবপুরে (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যরা অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৪শে মার্চ আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রচার করা হয়। পরদিন ২৫শে মার্চ দুপুরে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং চূড়ান্ত গণহত্যার নীলনকশা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে যান।

৩. ২৩শে মার্চ: ‘বাংলাদেশ প্রতিরোধ দিবস’ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন

২৩শে মার্চ ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের ‘পাকিস্তান দিবস’। কিন্তু ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও সর্বদলীয় আন্দোলনকারীরা এ দিনটিকে ‘বাংলাদেশ প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন।

সেদিন সকাল থেকে সারা পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি-বেসরকারি ভবন, কূটনৈতিক মিশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের বাড়িতে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে সোনালি মানচিত্রখচিত স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পল্টন ময়দানে ‘জয় বাংলা বাহিনী’র প্যারেড শেষে ছাত্রনেতারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যান। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে তাঁর বাসভবনে বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকা উত্তোলন করেন।

ঢাকার একমাত্র সেনানিবাস ও গভর্নর হাউস ছাড়া পুরো শহরের কোথাও পাকিস্তানের পতাকা উড়েনি। এটি ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি চরম অবাধ্যতা এবং স্বাধীনতার পক্ষে বাঙালির সুস্পষ্ট ঘোষণা।

ঐতিহাসিক স্থান তালিকায় ফিরে যান

১৯৭১ এর ১লা মার্চ থেকে সাধারণ ধর্মঘট ও অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে

১৯৭১ এর ১লা মার্চ থেকে সাধারণ ধর্মঘট ও অসহযোগ আন্দোলন হলো বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান।

মার্চ আন্দোলনের ৩৫টি কঠোর নির্দেশিকা (১৫ই মার্চ, ১৯৭১) অসহযোগ আন্দোলন শুধু রাস্তায় বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি ধীরে ধীরে এক ধরনের বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য ১৫ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৫টি প্রশাসনিক নির্দেশিকা...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১৯৭১ এর ১লা মার্চ থেকে সাধারণ ধর্মঘট ও অসহযোগ আন্দোলন কী?
মার্চ আন্দোলনের ৩৫টি কঠোর নির্দেশিকা (১৫ই মার্চ, ১৯৭১) অসহযোগ আন্দোলন শুধু রাস্তায় বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি ধীরে ধীরে এক ধরনের বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য ১৫ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ...
অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান কোথায় দেখব?
ঐতিহাসিক স্থান তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য স্থান দেখতে পারবেন।
১৯৭১ এর ১লা মার্চ থেকে সাধারণ ধর্মঘট ও অসহযোগ আন্দোলন | বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান | তথ্যবক্স | Totthobox