ভূগোল ও পরিবেশ

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

বাংলাদেশের পরিচিতি · বিস্তারিত তথ্য

২১৭
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা
+ ১ টি

বিস্তারিত বিবরণ

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও নদীমাতৃক দেশ। ভৌগোলিক দিক থেকে এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। ভারত মহাসাগরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমানা কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত অবস্থান

বাংলাদেশ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। গাণিতিক বা ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক অনুযায়ী:

  1. অক্ষাংশ: বাংলাদেশ ২০° ৩৪' (২০ ডিগ্রি ৩৪ মিনিট) উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬° ৩৮' (২৬ ডিগ্রি ৩৮ মিনিট) উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
  2. দ্রাঘিমাংশ: এটি ৮৮° ০১' (৮৮ ডিগ্রি ০১ মিনিট) পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২° ৪১' (৯২ ডিগ্রি ৪১ মিনিট) পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এর ঠিক মাঝখান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer - ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ) অতিক্রম করেছে। এই রেখাটি চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ি জেলার ওপর দিয়ে বিস্তৃত। এই রেখার অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী প্রকৃতির।

রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমানা

বাংলাদেশের সীমানার তিন দিক জুড়েই রয়েছে ভারত। দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সামান্য অংশে মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত রয়েছে এবং দক্ষিণে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।

  1. উত্তরে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং আসাম রাজ্য।
  2. পশ্চিমে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
  3. পূর্বে: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন প্রদেশ।
  4. দক্ষিণে: বঙ্গোপসাগর।

সীমানার দৈর্ঘ্য ও পরিধি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সীমান্তরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫,১৩৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলসীমার পরিমাণ ৪,৪২৭ কিলোমিটার এবং জলসীমার (উপকূলীয়) দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার।

  1. ভারতের সাথে সীমানা: বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত অত্যন্ত দীর্ঘ। ভারতের পাঁচটি রাজ্যের (পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম) সাথে বাংলাদেশের প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
  2. মিয়ানমারের সাথে সীমানা: দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে মিয়ানমারের সাথে প্রায় ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার একাংশ নাফ নদী দ্বারা বিভক্ত।

সমুদ্রসীমা (Maritime Boundary)

দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় বাংলাদেশের রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তৃত সমুদ্রসীমা। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়।

বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার বিশাল সমুদ্র এলাকার ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের মূল ভূখণ্ডের উপকূল থেকে:

  1. টেরিটোরিয়াল সি (Territorial Sea): ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত।
  2. এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ): ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত, যেখানে সামুদ্রিক সম্পদের ওপর বাংলাদেশের একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে।
  3. মহীসোপান (Continental Shelf): উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সমুদ্র তলদেশের খনিজ সম্পদের ওপর অধিকার রয়েছে।

আয়তন ও ভূপ্রকৃতি

বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল। ২০১৫ সালে ভারতের সাথে ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তির (ছিটমহল বিনিময়) ফলে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে আরও ১০,০৪১.২৫ একর জমি যুক্ত হয়। সমগ্র দেশটি মূলত একটি বিস্তীর্ণ সমভূমি, যা গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বিপুল পলি দ্বারা গঠিত। তবে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহের কিছু অংশে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি ও উঁচু ভূমি রয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সংযোগকারী ভূখণ্ড হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ১. বাণিজ্যিক কেন্দ্র: বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা অত্যন্ত সুবিধাজনক। ২. আঞ্চলিক ট্রানজিট: নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) মতো স্থলবেষ্টিত বা সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলগুলোর জন্য বাংলাদেশ একটি চমৎকার ট্রানজিট রুট। ৩. নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য এবং পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত স্বার্থের ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ একটি নির্ণায়ক অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের এই অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে কেবল কৃষিতেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও এক অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

বাংলাদেশের পরিচিতি তালিকায় ফিরে যান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কে

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা ক্যাটাগরি: ভূগোল ও পরিবেশ.

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও নদীমাতৃক দেশ। ভৌগোলিক দিক থেকে এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। ভারত মহাসাগরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমানা কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানার বিস্তারিত বিবরণ...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা কী?
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও নদীমাতৃক দেশ। ভৌগোলিক দিক থেকে এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। ভারত মহাসাগরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমানা কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানার বিস্তারিত বিবরণ...
অন্যান্য তথ্য কোথায় পাব?
বাংলাদেশের পরিচিতি তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য তথ্য দেখতে পারবেন।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা | বাংলাদেশের পরিচিতি | তথ্যবক্স | Totthobox