প্রাবন্ধিকবিজ্ঞানী

জগদীশ চন্দ্র বসু

৩০৯
জগদীশ চন্দ্র বসু
জগদীশ চন্দ্র বসু
জগদীশ চন্দ্র বসু
+ ১ টি

জীবন বৃত্তান্ত

জীবন ও অবদান

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু (৩০ নভেম্বর ১৮৫৮ – ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭) ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাবন্ধিক এবং বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের জনক। তিনি বিনা তারে বার্তা প্রেরণের (রেডিও তরঙ্গ ও মিলিমিটার তরঙ্গ) গবেষণায় অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ এবং উদ্ভিদের যে প্রাণ ও সংবেদনশীলতা রয়েছে তা বিজ্ঞানের দরবারে প্রমাণের জন্য চিরস্মরণীয়। বিজ্ঞান গবেষণায় কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা না নিয়ে আবিষ্কারকে মানবকল্যাণে উন্মুক্ত রাখার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানী।


জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন

জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ময়মনসিংহ শহরে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। তাঁর পিতা ভগবান চন্দ্র বসু ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাতা বামা সুন্দরী দেবী।

জগদীশ চন্দ্রের শিক্ষা জীবনের সূচনা ঘটেছিল গ্রামের এক সাধারণ বাংলা পাঠশালায়। পিতা প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী হলেও চেয়েছিলেন তাঁর সন্তান যেন আগে মাতৃভাষা ও নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে শেখে, তাই সচ্ছল পরিবার হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ইংরেজি স্কুলের বদলে বাংলা মক্তবে পাঠানো হয়েছিল।


শিক্ষাজীবন

পাঠশালার শিক্ষা শেষে ১৮৬৯ সালে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার উদ্দেশ্যে তিনি বিলেতে (যুক্তরাজ্যে) যান। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাশাস্ত্র ছেড়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি হন। ১৮৮৪ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে ট্রাইপাস অর্জন করেন এবং একই বছর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।


বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অসামান্য আবিষ্কার

১৮৮৫ সালে বিলেত থেকে ফিরে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ইউরোপীয় অধ্যাপকদের তুলনায় বৈষম্যমূলক বেতন এবং গবেষণাগারের অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজ খরচে তৈরি ছোট গবেষণাগারে ঐতিহাসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।

  1. রেডিও তরঙ্গ ও অপটিক্স (Physics): মার্কোনির আগেই তিনি ক্ষুদ্র তরঙ্গ (Micro wave & Millimeter wave) সৃষ্টি করেন এবং বিনা তারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সংকেত পাঠানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। ১৮৯৫ সালে কলকাতার টাউন হলে জনসমক্ষে দেয়াল ভেদ করে বিনা তারে বার্তা পাঠিয়ে বারুদ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রদর্শন করেন। তবে তিনি এই প্রযুক্তির কোনো পেটেন্ট (স্বত্ব) নেননি, বরং সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখেন।
  2. উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ক্রেস্কোগ্রাফ (Botany): তিনি প্রমাণ করেন যে প্রাণীদের মতো উদ্ভিদেরও সংবেদনশীলতা রয়েছে—তারাও আঘাত, আলো, বিষ বা রাসায়নিক প্রয়োগে ব্যথা ও ক্লান্তি অনুভব করে। উদ্ভিদের এই অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৃদ্ধি ও সাড়া লিপিবদ্ধ করার জন্য তিনি ‘ক্রেস্কোগ্রাফ’ (Crescograph) নামক অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্র উদ্ভাবন করেন।
  3. সাহিত্য ও প্রথম কল্পবিজ্ঞান: বিজ্ঞান আলোচনার পাশাপাশি তিনি ছিলেন চমৎকার একজন প্রাবন্ধিক। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অব্যক্ত’ বিজ্ঞান ও সাহিত্যের মেলবন্ধনে রচিত। তাঁর লেখা ‘নিরুদ্দেশের কাহিনী’ (পরবর্তীতে 'পলাতক তুফান') বাংলা সাহিত্যের প্রথম কল্পবিজ্ঞান গল্প হিসেবে স্বীকৃত।


বসু বিজ্ঞান মন্দির (Bose Institute) প্রতিষ্ঠা

১৯১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় বহুমুখী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ (Bose Institute)। নিজের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন বিজ্ঞানীদের গবেষণায় অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গেছেন।


সম্মাননা ও তিরোধান

বিজ্ঞান গবেষণায় যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২০ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (FRS) নির্বাচিত হন এবং ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নাইট’ (Sir) উপাধিতে ভূষিত করে। মহাকাশ বিজ্ঞানে তাঁর সম্মানার্থে চাঁদের একটি আগ্নেয়গিরির গহ্বরের নাম রাখা হয়েছে ‘বসু ক্রাটার’ (Bose crater)।

১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর ভারতে ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে ৭৭ বছর বয়সে এই কালজয়ী বিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন।

প্রোফাইল আর্কাইভে ফিরে যান

জগদীশ চন্দ্র বসু সম্পর্কে

জগদীশ চন্দ্র বসু প্রোফাইলটি প্রাবন্ধিক, বিজ্ঞানী শ্রেণির তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জীবন ও অবদান স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু (৩০ নভেম্বর ১৮৫৮ – ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭) ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাবন্ধিক এবং বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের জনক। তিনি বিনা তারে বার্তা প্রেরণের (রেডিও তরঙ্গ ও মিলিমিটার তরঙ্গ) গবেষণায় অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ এবং উদ্ভিদের যে প্রাণ ও সংবেদনশীলতা রয়েছে তা...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জগদীশ চন্দ্র বসু কী?
জীবন ও অবদান স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু (৩০ নভেম্বর ১৮৫৮ – ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭) ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাবন্ধিক এবং বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের জনক। তিনি বিনা তারে বার্তা প্রেরণের (রেডিও তরঙ্গ ও মিলিমিটার তরঙ্গ) গবেষণায় অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ এবং উদ্ভিদের যে প্রাণ ও সংবেদনশীলতা রয়েছে তা...
অন্যান্য প্রোফাইল কোথায় দেখব?
প্রোফাইল আর্কাইভ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রোফাইল দেখতে পারবেন।