শিল্পী

জয়নুল আবেদিন

২৮৩
 জয়নুল আবেদিন
 জয়নুল আবেদিন

জীবন বৃত্তান্ত

জীবন ও শিল্পকর্ম

জয়নুল আবেদিন (২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪ – ২৮ মে ১৯৭৬) ছিলেন আধুনিক বাংলা চারুকলার প্রধান রূপকার, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং শিক্ষক। বাংলাদেশে আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের সূচনা ও প্রসারে তাঁর অবিসংবাদিত অবদানের জন্য তাঁকে ‘শিল্পাচার্য’ (শিল্পের মহান শিক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৪৩ সালের অবিভক্ত বাংলার ভয়াবহ মন্বন্তরের ওপর আঁকা তাঁর কালজয়ী ‘দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা’ তাঁকে বিশ্বজুড়ে চিত্রশিল্পী হিসেবে খ্যাতি এনে দেয়।


জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন

জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম তামিজউদ্দিন আহমেদ, যিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, এবং মায়ের নাম জয়নাবুন্নেসা। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের নিভৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবন তাঁর শৈশবের শিল্পভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।


শিক্ষাজীবন ও চিত্রশিল্পে পদার্পণ

১৯৩৩ সালে তিনি কলকাতার বিখ্যাত সরকারি আর্ট স্কুলে (Calcutta Government School of Art) ভর্তি হন। ১৯৩৮ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠান থেকে চারুকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেরা শিল্পকর্মের জন্য ‘গভর্নর স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫১-৫২ সালে তিনি লন্ডনের স্লেড স্কুল অব ফাইন আর্ট (Slade School of Fine Art)-এ উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।


কালজয়ী শিল্পকর্ম ও সৃষ্টির বৈচিত্র্য

জয়নুল আবেদিনের রেখাচিত্র ও চিত্রকর্মগুলো মূলত সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক বাস্তবতার নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।

  1. মন্বন্তরের চিত্রমালা (১৯৪৩): ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের করুণ চিত্র তিনি তুলি ও সস্তার ক্যালিগ্রাফি কালিতে সাধারণ প্যাকিং কাগজের ওপর ফুটিয়ে তোলেন। অনাহারক্লিষ্ট কঙ্কালসার মানুষ ও ডাস্টবিনের দৃশ্য সংবলিত এই স্কেচগুলো বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল।
  2. সংগ্রাম (Sangram): কাদা-পানিতে আটকে থাকা গরুর গাড়ি টেনে তোলার অনমনীয় প্রচেষ্টার দৃশ্য সংবলিত এই চিত্রকর্মটি মানুষের আত্মশক্তি ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের এক অমর প্রতীক।
  3. নবান্ন ও মনপুরা ৭০: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে তিনি তৈরি করেন ৬৫ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং ‘নবান্ন’। এছাড়া ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকার ধ্বংসলীলা ও মানুষের দুর্দশা নিয়ে আঁকেন ৩০ ফুট দীর্ঘ বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মনপুরা ৭০’।


প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও চারুকলা আন্দোলন

বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক চিত্রশিল্প চর্চার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জয়নুল আবেদিন।

  1. চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গভর্নমেন্ট গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস’ (যা পরবর্তীতে চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ)। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন।
  2. সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর: গ্রামবাংলার লোকশিল্প সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের জন্য ১৯৭৫ সালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন’। এছাড়া নিজ শহর ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠা করেন ‘জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা’।


সম্মাননা ও তিরোধান

শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

১৯৭৬ সালের ২৮ মে ৬১ বছর বয়সে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় এই মহান চিত্রশিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

প্রোফাইল আর্কাইভে ফিরে যান

জয়নুল আবেদিন সম্পর্কে

জয়নুল আবেদিন প্রোফাইলটি শিল্পী শ্রেণির তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জীবন ও শিল্পকর্ম জয়নুল আবেদিন (২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪ – ২৮ মে ১৯৭৬) ছিলেন আধুনিক বাংলা চারুকলার প্রধান রূপকার, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং শিক্ষক। বাংলাদেশে আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের সূচনা ও প্রসারে তাঁর অবিসংবাদিত অবদানের জন্য তাঁকে ‘শিল্পাচার্য’ (শিল্পের মহান শিক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৪৩ সালের অবিভক্ত বাংলার ভয়াবহ...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জয়নুল আবেদিন কী?
জীবন ও শিল্পকর্ম জয়নুল আবেদিন (২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪ – ২৮ মে ১৯৭৬) ছিলেন আধুনিক বাংলা চারুকলার প্রধান রূপকার, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং শিক্ষক। বাংলাদেশে আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের সূচনা ও প্রসারে তাঁর অবিসংবাদিত অবদানের জন্য তাঁকে ‘শিল্পাচার্য’ (শিল্পের মহান শিক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৪৩ সালের অবিভক্ত বাংলার ভয়াবহ...
অন্যান্য প্রোফাইল কোথায় দেখব?
প্রোফাইল আর্কাইভ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রোফাইল দেখতে পারবেন।