লেখকশিল্পী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

২৪৫
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
+ ১ টি

জীবন বৃত্তান্ত

জীবন ও সাহিত্যকর্ম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত প্রতিভা—কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী এবং দার্শনিক। তিনি একাধারে আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রধান স্থপতি এবং বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য তিনি প্রথম এশীয় ও অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ ও ‘জন গণ মন’ যথাক্রমে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত।

জন্ম ও বংশপরিচয়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও ব্রহ্মোপাসক মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণে শৈশব থেকেই তিনি এক উন্নত সাহিত্যিক ও শিল্পসম্মত পরিবেশ লাভ করেন।

শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন

রবীন্দ্রনাথের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের প্রতি তীব্র অনীহা ছিল। তিনি কিছুদিন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ স্কুলসহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও বিদ্যালয়ের প্রথাগত ও রুটিনবাঁধা শিক্ষা তাঁর ভালো লাগেনি। পরবর্তীতে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তাঁর সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষার শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠে। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি প্রথম কবিতা রচনা করেন। ১৮৭৮ সালে আইন শাস্ত්‍ර অধ্যয়নের জন্য তিনি প্রথম ইংল্যান্ডে যান, তবে ডিগ্রি সম্পূর্ণ না করেই দেশে ফিরে আসেন এবং সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

সাহিত্যকর্ম ও সৃষ্টির বৈচিত্র্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকীর্তি অত্যন্ত বিশাল ও বহুমুখী। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

১. কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ

রবীন্দ্রনাথের কাব্যে প্রেম, প্রকৃতি, জীবনদর্শন, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবতাবাদের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

  1. গীতাঞ্জলি: ১৯১০ সালে প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদের জন্য (Song Offerings) তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
  2. অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: মানসী, সোনार তরী, চিত্রা, চৈতালী, ক্ষণিকা, পুনশ্চ, শেষ সപ്তক, জন্মদিনে ইত্যাদি।

২. গান ও রবীন্দ্রসংগীত

তিনি প্রায় দুই হাজার দুইশ গান রচনা ও তাতে সুরারোপ করেছেন, যা ‘রবীন্দ্রসংগীত’ নামে পরিচিত। রবীন্দ্রসংগীত বাংলা গান ও সংস্কৃতির প্রাণস্বরূপ। এই গানগুলো মানুষের জীবনের প্রতিটি আবেগ—আনন্দ, বেদনা, প্রেম, ভক্তি ও প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে।

৩. ছোটগল্প ও উপন্যাস

বাংলা ছোটগল্পের আধুনিক ধারার প্রবক্তা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, সুখ-দুঃখ ও মনস্তত্ত্ব তাঁর গল্পে সজীব হয়ে উঠেছে।

  1. ছোটগল্প: ক্ষুধিত পাষাণ, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, সমাপ্তি, একরাত্রি ইত্যাদি।
  2. উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, চার অধ্যায়, যোগাযোগ, শেষের কবিতা ইত্যাদি।

৪. নাটক ও প্রবন্ধ

তিনি সাংকেতিক নাটকসহ বহু নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করেছেন। তাঁর বিখ্যাত নাটকগুলোর মধ্যে রক্তকরবী, ডাকঘর, বিসর্জন ও রাজা অন্যতম। পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষা, রাজনীতি এবং সাহিত্য বিষয়ে তাঁর প্রাবন্ধিক রচনাগুলো আজও চিন্তার খোরাক জোগায়।

শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সংকীর্ণতা দূর করতে এবং প্রকৃতির কোলে মুক্ত পরিবেশে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরে শান্তিনিকেতন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯২১ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি ‘বিশ্বভারতী’ নামক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তা

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন গভীর দেশপ্রেমিক, তবে উগ্র জাতীয়তাবাদের তিনি সবসময় বিরোধী ছিলেন। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান এবং ‘রাখি বন্ধন’ উৎসবের প্রবর্তন করে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের ডাক দেন। তবে ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতায় প্রতিবাদস্বরূপ তিনি ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া সম্মানসূচক ‘নাইটহুড’ (Sir) উপাধি বর্জন করেন।

শেষ জীবন ও তিরোধান

জীবনের শেষ বছরগুলোতে রবীন্দ্রনাথ চিত্রশিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং প্রচুর ছবি আঁকেন, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার আরেকটি অনন্য দিক। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই সূর্য চিরতরে অস্তমিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অমর সৃষ্টি ও দূরদর্শী চিন্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিকে চিরকাল বিশ্বদরবারে গৌরবান্বিত করে রেখেছেন।

কর্মজীবনের ইতিহাস

রাষ্ট্রপতি
1985 – 1990
প্রোফাইল আর্কাইভে ফিরে যান

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রোফাইলটি লেখক, শিল্পী শ্রেণির তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জীবন ও সাহিত্যকর্ম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত প্রতিভা—কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী এবং দার্শনিক। তিনি একাধারে আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রধান স্থপতি এবং বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী?
জীবন ও সাহিত্যকর্ম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত প্রতিভা—কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী এবং দার্শনিক। তিনি একাধারে আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রধান স্থপতি এবং বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য...
অন্যান্য প্রোফাইল কোথায় দেখব?
প্রোফাইল আর্কাইভ তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রোফাইল দেখতে পারবেন।