সমুদ্র সৈকত

ছেঁড়া দ্বীপ

টেকনাফ • কক্সবাজার • চট্টগ্রাম

৯৭
ছেঁড়া দ্বীপ
ছেঁড়া দ্বীপ
ছেঁড়া দ্বীপ

বিস্তারিত বিবরণ

ছেঁড়া দ্বীপ হলো বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের বিন্দু হলো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের অংশ ‘ছেঁড়া দ্বীপ এবং এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ。 বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ নীল পানি এবং জীবন্ত প্রবাল প্রাচীরের জন্য বিখ্যাত।

স্থানীয়ভাবে এটি ‘ছেঁড়াদিয়া’ বা ‘সিরাদিয়া’ নামে সুপরিচিত। মূল সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন বা ছেঁড়া একটি ক্ষুদ্র অংশ হওয়ায় লোকমুখে এর নাম দাঁড়িয়েছে ছেঁড়া দ্বীপ। এর পর দক্ষিণ দিকে বাংলাদেশের আর কোনো ভূখণ্ড নেই—কেবলই বিস্তৃত ও সীমাহীন প্রবাল নীল বঙ্গোপসাগর। স্বচ্ছ কাঁচের মতো পানি, মৃত ও জীবন্ত প্রবাল, কেওড়া গাছ এবং নিঝুম পরিবেশের কারণে এটি বাংলাদেশের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও নান্দনিক পর্যটন স্থান।


  1. নামকরণের রহস্য: বাংলা ‘ছেঁড়া’ শব্দের অর্থ হলো আলাদা বা বিচ্ছিন্ন। মূল সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে জোয়ার-ভাটার কারণে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে বলেই এই দ্বীপপুঞ্জের নাম হয়েছে ছেঁড়া দ্বীপ।
  2. জোয়ার-ভাটার খেলা: দ্বীপটির আয়তন প্রায় ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটারের মতো। এটি মূলত একগুচ্ছ ক্ষুদ্র প্রবাল পাথরের সমষ্টি। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে দ্বীপের বেশিরভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে যায় এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি দ্বীপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আবার ভাটার সময় পানি নেমে গেলে সব প্রবাল পাথর ও ভূখণ্ড এক হয়ে ভেসে ওঠে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

ছেঁড়া দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্য যেকোনো সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য:

১. কেওড়া বন ও প্রবালের মেলবন্ধন

দ্বীপের মাঝখানে রয়েছে প্রাচীন কেওড়া গাছের ছোট একটি বন। প্রবাল পাথরের শক্ত ফাটল ভেদ করে সবুজ কেওড়া গাছ ও বুনো লতাগুল্মের বেঁচে থাকার দৃশ্য প্রাকৃতিক অভিযোজনের এক চমৎকার উদাহরণ।

২. নীল পানি ও প্রবাল পাথর

ছেঁড়া দ্বীপের চারপাশের পানি এতটাই কাঁচের মতো স্বচ্ছ যে, ওপর থেকেই সমুদ্রের তলদেশের জীবন্ত প্রবাল, প্রবাল পাথর এবং রঙিন মাছ ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার বছরের পুরোনো বিভিন্ন আকৃতির প্রবাল, যা হেঁটে বেড়ানোর সময় এক অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি করে।

৩. সামুদ্রিক প্রাণী ও পরিবেশ

এখানে সামুদ্রিক কাঁকড়া, নানা জাতের ঝিনুক, শাঁখ ও ছোট রঙিন মাছের উপস্থিতি প্রচুর। এছাড়া শীতে নীল জলের ওপর শুভ্র গাঙচিলের ওড়াউড়ি দ্বীপের নির্জন পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকট

ছেঁড়া দ্বীপ কেবল একটি দর্শনীয় স্থানই নয়, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের অংশ:

  1. প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA): অতিরিক্ত পর্যটকদের যাতায়াত এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে দ্বীপের জীবন্ত প্রবাল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ায় সরকার একে ‘পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।


পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে যান

ছেঁড়া দ্বীপ সম্পর্কে

ছেঁড়া দ্বীপ বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান। এটি সমুদ্র সৈকত ধরনের পর্যটন কেন্দ্র। এটি টেকনাফ • কক্সবাজার • চট্টগ্রাম এলাকায় অবস্থিত।

ছেঁড়া দ্বীপ হলো বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের বিন্দু হলো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের অংশ ‘ছেঁড়া দ্বীপ এবং এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ。 বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ নীল পানি এবং জীবন্ত প্রবাল প্রাচীরের জন্য বিখ্যাত।...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ছেঁড়া দ্বীপ কী?
ছেঁড়া দ্বীপ হলো বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বদক্ষিণের বিন্দু হলো প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের অংশ ‘ছেঁড়া দ্বীপ এবং এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ。 বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ নীল পানি এবং জীবন্ত প্রবাল প্রাচীরের জন্য বিখ্যাত।...
অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র কোথায় দেখব?
পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য স্থান দেখতে পারবেন।
ছেঁড়া দ্বীপ | বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র | তথ্যবক্স | Totthobox