হিমছড়ি
কক্সবাজার সদর • কক্সবাজার • চট্টগ্রাম



বিস্তারিত বিবরণ
বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন স্থান হলো হিমছড়ি। একপাশে নীল জলরাশির সুবিশাল বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে সবুজ পাহাড়ি বৃক্ষরাজির মেলবন্ধন—এই দুইয়ের অপূর্ব সমন্বয়ে হিমছড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য স্বর্গরাজ্য। পাহাড় ও সমুদ্রের এমন বিরল ও যুগলবন্দী দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক হিমছড়িতে ভিড় জমান।
ইতিহাস ও পটভূমি
- প্রাকৃতিক নৈসর্গ: একসময় হিমছড়ি ছিল দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চল। তবে নব্বইয়ের দশকে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের পর হিমছড়ি পর্যটকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- জাতীয় উদ্যান: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও এখানকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে হিমছড়ির ১,৭২৯ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমিকে ‘হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রধান আকর্ষণ ও সৌন্দর্য
১. হিমছড়ি পাহাড় ও ভিউ পয়েন্ট
হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ হলো এর উঁচু পাহাড়। পাহাড়ে ওঠার জন্য সুন্দর সিঁড়ি তৈরি করা আছে। প্রায় দুই শতাধিক সিঁড়ি ভেঙে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যপট—একদিকে দিগন্তজোড়া নীল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ি বনভূমি। ওপর থেকে সমুদ্রের দিকে তাকালে জীবনের সব ক্লান্তি এক মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়।
২. হিমছড়ি ঝরনা (জলপ্রপাত)
পাহাড়ের গা ঘেঁষে নেমে আসা প্রাকৃতিক ঝরনাটি এখানকার অন্যতম পুরোনো পরিচিতি। বর্ষাকালে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) যখন পাহাড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়, তখন ঝরনাটি তার পূর্ণ রূপ ফিরে পায় এবং ঝরঝর শব্দে ঠাণ্ডা পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে। তবে শুষ্ক মৌসুমে বা শীতে এতে পানির পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।
৩. কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ
হিমছড়িতে যাওয়ার পথটি নিজেই এক অভূতপূর্ব পর্যটন অভিজ্ঞতা। একপাশে পাহাড়ের উঁচুনীচু দেয়াল আর অন্যপাশে সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে পিচঢালা খোলা রাস্তা। খোলা জিপ (চান্দের গাড়ি) বা সিএনজিতে করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে হিমছড়ি যাওয়ার অনুভূতি যেকোনো পর্যটকের মনে চিরকাল গেঁথে থাকে।
৪. নিরিবিলি সমুদ্রসৈকত
কক্সবাজার মূল শহরের সৈকতগুলোতে সবসময় প্রচুর জনসমাগম থাকে। তবে তার তুলনায় হিমছড়ি সংলগ্ন সৈকত কিছুটা নিরিবিলি ও শান্ত। সমুদ্রের বাতাস উপভোগ করা, বালুচরে হাঁটা কিংবা ছাতার নিচে বসে সময় কাটানোর জন্য এটি উপযুক্ত জায়গা।
উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য
হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান কেবল একটি দর্শনীয় স্থানই নয়, এটি এ অঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর এক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ নিবাস:
- উদ্ভিদবৈচিত্র্য: এ বনে প্রচুর পরিমাণে গর্জন, চাপালিশ, তেলশুড়, বাসক এবং নানা জাতের পাহাড়ি লতাগুল্ম প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়।
- বন্যপ্রাণী ও পাখি: হিমছড়ির পাহাড়ি বনে রয়েছে মুখপোড়া হনুমান, বুনো হাতি, মায় হরিণ, বুনো শূকর ও শেয়াল। এছাড়া প্রায় ৫৫ প্রজাতি ও বৈচিত্র্যের দেশি ও পরিযায়ী পাখির অবাধ বিচরণ এখানে দেখা যায়।
হিমছড়ি সম্পর্কে
হিমছড়ি বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান। এটি ঝর্ণা ও জলপ্রপাত ধরনের পর্যটন কেন্দ্র। এটি কক্সবাজার সদর • কক্সবাজার • চট্টগ্রাম এলাকায় অবস্থিত।
বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন স্থান হলো হিমছড়ি । একপাশে নীল জলরাশির সুবিশাল বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে সবুজ পাহাড়ি বৃক্ষরাজির মেলবন্ধন—এই দুইয়ের অপূর্ব সমন্বয়ে হিমছড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য স্বর্গরাজ্য। পাহাড় ও সমুদ্রের এমন বিরল ও যুগলবন্দী দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার...