ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী

মুজিবনগর • মেহেরপুর • খুলনা

১৩৯
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী

বিস্তারিত বিবরণ

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ:

মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল যেখানে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল, সেখানেই স্থপতি তানভীর করিমের নকশায় এই অনন্য স্থাপত্যটি গড়ে তোলা হয়েছে।


স্থাপত্যের প্রতীকী তাৎপর্য

এই স্মৃতিসৌধের প্রতিটি দেয়াল, সিঁড়ি এবং পাথর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক একটি অধ্যায়কে ফুটিয়ে তোলে:

ঐতিহাসিক লাল মঞ্চ: স্মৃতিসৌধের ঠিক মাঝখানে ২৪ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্ত সিরামিকের ইটের তৈরি এই মঞ্চটি সেই স্থানকে চিহ্নিত করে, যেখানে অস্থায়ী সরকারের সদস্যরা শপথ নিয়েছিলেন।

২৩টি স্মৃতিস্তম্ভ: আগস্ট ১৯৪৭ থেকে মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত—এই ২৩ বছরের দীর্ঘ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ২৩টি ত্রিভুজাকৃতি দেয়াল বৃত্তাকারে সাজানো হয়েছে।

প্রথম দেয়ালটির উচ্চতা ৯ ফুট ৯ ইঞ্চি। পরবর্তী প্রতিটি দেয়াল ক্রমান্বয়ে ৯ ইঞ্চি করে উঁচু করা হয়েছে, যা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বীরত্বগাথাকে নির্দেশ করে।

দেয়ালের অসংখ্য ছিদ্র পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অমানুষিক নির্যাতনের চিহ্ন হিসেবে প্রদর্শিত।


বুদ্ধিজীবী ও শহীদদের স্মরণে: * ভূমি থেকে ২ ফুট ৬ ইঞ্চি উঁচু বেদীর গোল বৃত্তগুলো ১ লক্ষ বুদ্ধিজীবীর খুলির প্রতীক।

৩ ফুট উচ্চতার বেদীতে বসানো অসংখ্য পাথর ৩০ লক্ষ শহীদ ও মা-বোনের আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে।

পাথরগুলোর মাঝখানে ১৯টি রেখা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ১৯টি জেলাকে নির্দেশ করে।মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর: স্মৃতিসৌধের মূল বেদীতে আরোহণের জন্য ১১টি সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে বিভক্ত করা ১১টি প্রশাসনিক সেক্টরের প্রতীক।

রক্তের সাগর ও ভাষা আন্দোলন: স্মৃতিসৌধের পশ্চিমে প্রথম দেয়ালের পাশ দিয়ে বয়ে চলা লাল প্রবাহটি 'রক্তের সাগর' নামে পরিচিত। মূল ফটক থেকে আসা রাস্তাটি ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে এই রক্তের সাগরকে স্পর্শ করেছে।

ঐক্যবদ্ধ জনতা: লাল মঞ্চ থেকে ২৩টি দেয়ালের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় অসংখ্য নুরি-পাথর দিয়ে মোজাইক করা হয়েছে, যা ১৯৭১ সালের সাড়ে সাত কোটি ঐক্যবদ্ধ জনতাকে ফুটিয়ে তোলে।

বঙ্গোপসাগর: উত্তর পাশের আমবাগান ঘেঁষা মোজাইক করা অংশটি বঙ্গোপসাগরের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।


প্রাকৃতিক পরিবেশ

স্মৃতিসৌধটি ঐতিহাসিক সেই বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে অবস্থিত। চারপাশে সারি সারি আমগাছ আর সবুজের সমারোহ এখানকার পরিবেশকে গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মনোরম করে তুলেছে।

পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে যান

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী সম্পর্কে

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান। এটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ধরনের পর্যটন কেন্দ্র। এটি মুজিবনগর • মেহেরপুর • খুলনা এলাকায় অবস্থিত।

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল যেখানে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল, সেখানেই স্থপতি তানভীর করিমের নকশায় এই অনন্য স্থাপত্যটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থাপত্যের প্রতীকী তাৎপর্য এই স্মৃতিসৌধের প্রতিটি দেয়াল, সিঁড়ি...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী কী?
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল যেখানে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল, সেখানেই স্থপতি তানভীর করিমের নকশায় এই অনন্য স্থাপত্যটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থাপত্যের প্রতীকী তাৎপর্য এই স্মৃতিসৌধের প্রতিটি দেয়াল, সিঁড়ি...
অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র কোথায় দেখব?
পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য স্থান দেখতে পারবেন।
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ: স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়ের সাক্ষী | বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র | তথ্যবক্স | Totthobox