ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ

বদলগাছী • নওগাঁ • রাজশাহী

১৭২
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ
+ ৪ টি

বিস্তারিত বিবরণ

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার পাল বংশের গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। অষ্টম শতকের শেষভাগে পাল সম্রাট ধর্মপাল এটি নির্মাণ করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে।


নামকরণ ও আবিষ্কারের ইতিহাস

নামকরণ: মূল নাম সোমপুর বিহার হলেও দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত থাকায় এটি মাটির নিচে চাপা পড়ে পাহাড়ের মতো আকৃতি ধারণ করেছিল। স্থানীয়রা একে 'গোপাল চিতার পাহাড়' বলত, যা থেকে পরবর্তীতে 'পাহাড়পুর' নামটি প্রচলিত হয়।

আবিষ্কার: ১৮৭৯ সালে প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল স্থাপনাটি আবিষ্কার করেন।


স্থাপত্যশৈলী ও গঠন

পাহাড়পুর বিহারের স্থাপত্য পরিকল্পনা অত্যন্ত সুসংগত এবং বিশাল:

ভূমি পরিকল্পনা: এটি চতুর্ভুজাকৃতির একটি স্থাপনা। এর চারদিকের দেয়াল জুড়ে মোট ১৭৭টি সন্ন্যাস কক্ষ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্দির: বিহারের ঠিক মাঝখানে রয়েছে বিশাল এক মন্দির, যার উচ্চতা বর্তমানে প্রায় ৮০ ফুট। এর ক্রুশাকার (Cross-shaped) ভূমি পরিকল্পনা এবং ধাপযুক্ত স্তূপ স্থাপত্য ইতিহাসে এক বিস্ময়।

পোড়ামাটির ফলক (Terracotta): মন্দিরের দেওয়ালে প্রায় ২,০০০-এর বেশি পোড়ামাটির ফলকচিত্র রয়েছে, যা তৎকালীন বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, জীবজন্তু এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে ফুটিয়ে তোলে।


শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র

৩০০ বছর ধরে এটি ছিল বৌদ্ধ ধর্ম ও জ্ঞান অর্জনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র:

আন্তর্জাতিক খ্যাতি: চীন, তিব্বত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসতেন।

অতীশ দীপঙ্কর: দশম শতকে বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত ও আচার্য অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এই বিহারের মঠাধ্যক্ষ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।


পতন ও ধ্বংসের ইতিহাস

এক সময়ের সমৃদ্ধ এই মহাবিহারটি বিভিন্ন কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ে:

রাজনৈতিক অস্থিরতা: পাল বংশের পতনের পর সেন রাজাদের আমলে এটি রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারায়।

আক্রমণ: একাদশ শতাব্দীতে দাক্ষিণাত্যের চোল রাজা ও স্থানীয় কৈবর্ত সামন্তদের আক্রমণে বিহারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মুসলিম বিজয়: ১২শ শতকের শুরুতে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের সময় সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতায় এটি পরিত্যক্ত হয়।


মাকল ও জাদুঘর

বিহার সংলগ্ন একটি আধুনিক জাদুঘর রয়েছে, যেখানে খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত মূল্যবান প্রত্নবস্তু, মূর্তিশিল্প এবং অলঙ্কৃত ইট সংরক্ষিত আছে। এর পাশেই রয়েছে 'সত্যপীরের ভিটা', যেখানে তারা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে যান

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ সম্পর্কে

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান। এটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ধরনের পর্যটন কেন্দ্র। এটি বদলগাছী • নওগাঁ • রাজশাহী এলাকায় অবস্থিত।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার: নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার পাল বংশের গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। অষ্টম শতকের শেষভাগে পাল সম্রাট ধর্মপাল এটি নির্মাণ করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে। নামকরণ ও আবিষ্কারের ইতিহাস...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ কী?
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার: নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার পাল বংশের গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। অষ্টম শতকের শেষভাগে পাল সম্রাট ধর্মপাল এটি নির্মাণ করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে। নামকরণ ও আবিষ্কারের ইতিহাস...
অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র কোথায় দেখব?
পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য স্থান দেখতে পারবেন।
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার প্রাচীন জ্ঞানপীঠ | বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র | তথ্যবক্স | Totthobox