সমুদ্র সৈকত

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

টেকনাফ • কক্সবাজার • চট্টগ্রাম

১২৬
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
+ ১ টি

বিস্তারিত বিবরণ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: বাংলাদেশের নীল জলের স্বর্গরাজ্য

বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবাল প্রাচীর আর নারিকেল গাছের সারিতে ঘেরা এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে 'দারুচিনি দ্বীপ' বা 'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামেও পরিচিত।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নামকরণ

সেন্ট মার্টিনের ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়:

আরব বণিকদের অবদান: প্রাচীনকালে আরব বণিকেরা বিশ্রামের জন্য এই দ্বীপে থামতেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন 'জিঞ্জিরা'।

বসতি স্থাপন: ১৮৯০ সালের দিকে প্রথম ১৩টি বাঙালি ও রাখাইন পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। মিঠা পানির অভাব দূর করতে তারা প্রচুর নারিকেল গাছ রোপণ করেন, যা থেকে দ্বীপটির নাম হয় 'নারিকেল জিঞ্জিরা'।

সেন্ট মার্টিন নাম: ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভূ-জরিপ দল দ্বীপটিকে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সময় তৎকালীন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মিস্টার মার্টিনের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় 'সেন্ট মার্টিন'।


ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন

টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় এই দ্বীপটির অবস্থান।

আয়তন: মূল ভূখণ্ড প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার, তবে ভাটার সময় জেগে ওঠা শিলাস্তরসহ এটি ১০-১৫ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়ায়।

গঠন: দ্বীপটি প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত— উত্তর পাড়া, দক্ষিণ পাড়া এবং সরু অংশ 'গলাচিপা'।

ছেঁড়া দ্বীপ: সেন্ট মার্টিনের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত একটি বিচ্ছিন্ন অংশ, যেখানে কেবল ভাটার সময় হেঁটে যাওয়া যায়। এটি সম্পূর্ণ জনশূন্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।


জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি

সেন্ট মার্টিন একটি জীবন্ত প্রাকৃতিক জাদুঘর:

প্রবাল ও শৈবাল: এখানে ৬৬ প্রজাতির প্রবাল এবং প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক শৈবাল (পেজালা) পাওয়া যায়।

প্রাণিকুল: এটি সামুদ্রিক কচ্ছপের (সবুজ ও জলপাইরঙা) প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। এছাড়া ২৪০ প্রজাতির মাছ, ১২০ প্রজাতির পাখি এবং অসংখ্য বিরল শামুক-ঝিনুক এখানে দেখা যায়।

সংরক্ষণ: দ্বীপটির বাস্তুসংস্থান রক্ষায় ২০২২ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১৭৪৩ বর্গ কি.মি. এলাকাকে 'সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করেছে।


পর্যটন ও জনজীবন

দ্বীপের প্রায় ৮,০০০ বাসিন্দার প্রধান জীবিকা মাছ ধরা এবং পর্যটন সেবা।

ভ্রমণের সময়: নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম। টেকনাফ থেকে প্রতিদিন বেশ কিছু আধুনিক লঞ্চ ও জাহাজ পর্যটকদের যাতায়াত নিশ্চিত করে।

আকর্ষণ: নীল জলরাশি, সৈকতে সূর্যাস্ত দেখা এবং টাটকা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিতে প্রতিবছর লক্ষাধিক পর্যটক এখানে ভিড় করেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের 'দারুচিনি দ্বীপ' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।


পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে যান

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান। এটি সমুদ্র সৈকত ধরনের পর্যটন কেন্দ্র। এটি টেকনাফ • কক্সবাজার • চট্টগ্রাম এলাকায় অবস্থিত।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: বাংলাদেশের নীল জলের স্বর্গরাজ্য বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবাল প্রাচীর আর নারিকেল গাছের সারিতে ঘেরা এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে 'দারুচিনি দ্বীপ' বা 'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামেও পরিচিত। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নামকরণ...

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কী?
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: বাংলাদেশের নীল জলের স্বর্গরাজ্য বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবাল প্রাচীর আর নারিকেল গাছের সারিতে ঘেরা এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে 'দারুচিনি দ্বীপ' বা 'নারিকেল জিঞ্জিরা' নামেও পরিচিত। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নামকরণ...
অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র কোথায় দেখব?
পর্যটন কেন্দ্র তালিকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য স্থান দেখতে পারবেন।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ | বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র | তথ্যবক্স | Totthobox